Home » আন্তর্জাতিক » আঞ্চলিক রাজনৈতিক জোট

আঞ্চলিক রাজনৈতিক জোট

 আঞ্চলিক রাজনৈতিক জোট হলো একই ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্গত দেশগুলির মধ্যে গঠিত জোট যারা সাধারণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক বা সাংস্কৃতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করে। এই জোটগুলি বিভিন্ন আকারের হতে পারে এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তৈরি হতে পারে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU)

EU এর পূর্ণরুপEuropean Union
প্রতিষ্ঠাকালইউরোপীয় সম্প্রদায় - European Community (EC) বা
ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়- European Economic Community (EEC)
১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ রোমে পশ্চিম ইউরোপের ছয়টি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি 'রোম চুক্তি' (Rome Treaty) নামে পরিচিত। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি বেলজিয়াম, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ড ইইসি বা ইসি প্রতিষ্ঠা করে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন -European Union (EU)
১৯৯২ সালের ৭ ফ্রেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডের ম্যাসট্রিচটে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ম্যাসট্রিচট চুক্তি (Maastricht Treaty) নামে পরিচিত। ১৯৯৩ সালের ১ নভেম্বর চুক্তিটি কার্যকর হয়। এই চুক্তির ফলে 'ইউরোপীয় ইউনিয়ন' এবং ইউরোপের একক মুদ্রা 'ইউরো' চালু হয়।
সদস্যবর্তমান সদস্য দেশ: ২৭টি দেশ। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।
সর্বশেষ সদস্য দেশ: ক্রোয়েশিয়া (০১/০৭/২০১৩)।
সদস্য পদপ্রার্থী : তুরস্ক, সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রো, আলবেনিয়া, আইসল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
সদর দপ্তরব্রাসেলস, বেলজিয়াম
উদ্দেশ্য● পারস্পরিক স্বার্থে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে নিজেদের পণ্যের জন্য সুলভ ও সাধারণ বাজার সৃষ্টি ।
● বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্লক।
● ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকেরা পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাতায়াত করতে পারে।
কাঠামোইউরোপীয়ান কাউন্সিল (European Council): ইউরোপীয়ান কাউন্সিল সদস্য দেশসমূহের সরকার প্রধানদের নিয়ে গঠিত । এটি ইউনিয়নের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংগঠন। এর মাধ্যমে ইউনিয়নের নীতিমালা ও নির্দেশিকা তৈরি করা হয়।
ইউরোপীয়ান কমিশন (European Commission): ইউরোপীয় কমিশনের দায়িত্ব খসড়া আইন প্রস্তুত করে বিবেচনার জন্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভায় পেশ করা ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (European Parliament): ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা ৭৫১ । ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের যাবতীয় আইন প্রণয়ন বিষয়ে সহযোগিতা করে। কর্মস্থল: স্ট্রাসবার্গ, লুক্সেমবার্গ ও ব্রাসেলসে।
ইউরোপীয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (Court of Justice of the European Union): ইউরোপীয়ান কোর্ট অব জাস্টিস আইন প্রয়োগের ব্যাপারে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। লুক্সেমবার্গে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
ইউরোপীয়ান কোর্ট অব অডিটরস (Court of Auditors): ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট পরীক্ষা করে কোর্ট অব অডিটরস। লুক্সেমবার্গে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
FRONTEX - ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার গার্ডস
ইউরো● ইউরো হল ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশসমূহের একক মুদ্রা।
ইউরো মুদ্রার কেন্দ্রীয় ব্যাংক: ইউরোপীয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক (European Central Bank)। জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্টে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
জনক: রবার্ট মুন্ডেল।
১ জানুয়ারি, ১৯৯৯: ইউরো মুদ্রা চালু হয়। তখন ১১ টি দেশ ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে।
১ জানুয়ারি, ২০০২: ইউরো নোট চালু হয় এবং একই সাথে ইউরোর দেশগুলো পুরাতন মুদ্রা বাতিল করে দেয়। ফলে একক মুদ্রা হিসাবে 'ইউরো' চালু হয়।
● বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত ১৯ টি দেশে ইউরো মুদ্রা চালু আছে। যথা- বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, পতুর্গাল, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, স্লোভেনিয়া, সাইপ্রাস, মাল্টা, স্লোভাকিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং নিথুনিয়া। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি লাটভিয়া ১৮তম দেশ হিসেবে ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর লিথুনিয়া ১৯তম দেশ হিসেবে ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে।
● ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাহিরে কসোভো, মন্টিনিগ্রো, এন্ডোরা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, স্যানমেরিনো 'ইউরো' কে একক মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করে।
চুক্তিসংস্কার বিষয়ে লিসবন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ (লিসবন, পর্তুগাল) (আর্টিকেল ৫০ এর সাথে জড়িত)

আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU)

AU এর পূর্ণরুপAfrican Union
প্রতিষ্ঠাকালআফ্রিকান ঐক্য সংস্থা (Organization of African Unity) ২৫ মে, ১৯৬৩ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

আফ্রিকান ইউনিয়ন (African Union) ৯ জুলাই, ২০০২ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদর দপ্তরআফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন, আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া
সদস্য● বর্তমান সদস্য: আফ্রিকার ৫৫টি দেশ। (মরক্কো ব্যতীত আফ্রিকার সকল দেশ)
● সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান (১৫/০৮/২০১১)
● প্রাক্তন সদস্য: মরক্কো।

আরবলীগ

প্রতিষ্ঠাকাল২২ মার্চ, ১৯৪৫ সাল।
সদর দপ্তরকায়রো, মিশর। উল্লেখ্য, ১৯৭৯-১৯৯০ সাল পর্যন্ত দফতর তিউনিসে ছিল। আরব লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদর দপ্তর ছিল মিশরের কায়রোতে। কিন্তু ১৯৭৮ সালে মিশর-ইসরাইলের ক্যাম্পডেভিড চুক্তির জন্য মিশরকে আরবলীগ হতে বহিষ্কার করা হয় এবং সদর দপ্তর তিউনিশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৯০ সালে মিশর পুনরায় আরবলীগে যোগদান করে এবং সদর দপ্তর কায়রোতে স্থাপিত হয়।
সদস্য● আরবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দেশ ৬টি সৌদি আরব, ইরাক, মিশর, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়া (৫ মে ইয়েমেন ৭ম সদস্য হিসেবে যোগ দেয়)
● আরবলীগের বর্তমান সদস্য দেশ ২২টি।
পর্যবেক্ষক দেশ৪টি। যথা- ইরিত্রিয়া, ব্রাজিল, ভারত এবং ভেনিজুয়েলা।
সদস্য নয়আরব লীগের সদস্য আরবি ভাষাভাষি দেশসমূহ। ইরানের ভাষা আরবি নয়, ফারসি। ফলে ইরান সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আরবভুক্ত নয় বরং পার্সিয়ান বা ফারসি।

আমেরিকার রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা

OAS এর পূর্ণরুপOrganization of American States
প্রতিষ্ঠাকাল৩০ এপ্রিল, ১৯৪৮ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়;
১ ডিসেম্বর, ১৯৫১ সালে কার্যকর হয়।
সদর দপ্তরওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র
সদস্য৩৫ টি দেশ।
বাংলাদেশOAS-এর একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO)

SCO এর পূর্ণরুপShanghai Co-operation Organization.
প্রতিষ্ঠাকাল১৫ জুন, ২০০১
সদস্য দেশ৮টি। যথা: চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত এবং পাকিস্তান। (৯ জুন ২০১৭ ভারত ও পাকিস্তান এর পূর্ণ সদস্যপদ পায়)
সদর দপ্তরবেইজিং, চীন।
বিবর্তনসাংহাই-৫
১৯৯৬ সালে গঠিত হয় (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজাকিস্তান)
⤋ ⤇ উজবেকিস্তান ২০০১ সালে যোগদান করে
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা
উদ্দেশ্যসীমান্ত বিরোধ নিরসন

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC)

GCC এর পূর্ণরুপGulf Co-operation Council
পরিচিতিপারস্য উপসাগরের দেশসমূহের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জোট
Political and economic union of the states bordering the Persian Gulf
সদস্য দেশ৬টি। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৮১
সদর দপ্তররিয়াদ, সৌদি আরব
কাতার সংকটসাম্প্রতিক কাতার সংকটকে কেন্দ্র করে GCC-ভূক্ত অন্য দেশগুলোর সাথে কাতারের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ৫ জুন ২০১৭ ছয়টি আরব দেশ সৌদি আরব, ইয়েমেন, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, লিবিয়া) ও মালদ্বীপ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কারণ কাতার মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, ফিলিস্তিনের হামাস গেরিলাকে সমর্থন দিচ্ছে। আল জাজিরা নেটওয়ার্ক উগ্রবাদকে সমর্থন দিচ্ছে। এই সম্পর্ক পুনস্থাপনে সৌদি আরব ১৩টি শর্ত দিয়েছে।
No comments
Post a Comment