বাংলা লিপি
ধ্বনির লিখিত রূপই লিপি বা Script । বাংলা ভাষা লিখে প্রকাশ করার জন্য যে লিপি বা Script ব্যবহার করা হয় তাকে বাংলা লিপি বলা হয়। বাংলা লিপি বা বর্ণ মোট ৫০ টি। বাংলা লিপি দু ধরনের যথা: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ। স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। স্বরবর্ণের আবার সংক্ষিপ্ত রুপ রয়েছে যাদের কার চিহ্ন বলা হয়। কার চিহ্ন মোট ১০ টি।
বাংলা লিপি মুদ্রণের ইতিহাস
১৭৭৮ সালে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের (হালেদ) এর হাত ধরে ”আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ” প্রকাশনার মাধ্যমে বাংলা মুদ্রণশিল্পের জন্ম হয়। যদি ও বইটি ইংরেজিতে ছিল কিন্তু বাংলা বর্ণ পরিচয় সংক্রান্ত কিছুই বাংলাতে লিখা হয়েছিল। এই মুদ্রণে প্রথমবারের মত "বিচল হরফ" প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে এই প্রথম দিককার হরফগুলি খুব সুদৃশ্য ও পরিণত ছিল না। ইংরেজির তুলনায় বাংলা হরফের আকার ছিল বেশ বড়। ইউরোপে এর প্রায় তিনশত বছর আগেই বিচল হরফে ছাপার প্রযুক্তি শুরু হয়ে গেলেও বাংলাতে এটি ছিল একেবারেই নতুন একটি ঘটনা। ১৮০০ সালে শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে পঞ্চানন কর্মকারের সাথে উইলিয়াম কেরি ও উইলিয়াম ওয়ার্ড ছিলেন। এদের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা হরফের চেহারার উন্নতি হতে থাকে।
বাংলা লিপির উৎপত্তি
বাংলা লিপির উৎপত্তি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- সপ্তম শতাব্দী এবং ড. সুনীতিকুমারের মতে- দশম শতাব্দীতে। প্রাচীন ভারতের প্রচলিত চিত্রলিপি থেকে ভারতীয় লিপির উৎপত্তি। ভারতীয় লিপির রূপ আবার দুইটি। যথা: ১. ব্রাহ্মী লিপি ২. খরোষ্ঠী লিপি ।ভারতের মৌলিক লিপি হচ্ছে ব্রাহ্মী লিপি। সকল ভারতীয় লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে জন্মলাভ করেছে। বাংলা, সিংহলী, ব্রহ্মী, শ্যামী, যবদ্বীপ ও তিব্বতী লিপির উৎসও ব্রাহ্মী লিপি। ব্রাহ্মী লিপি বাম দিক থেকে লেখা হয় এবং খরোষ্ঠী লিপি ডানদিক থেকে লেখা শুরু হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনামলের। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে, তা উভয় প্রাপ্ত লিপির সাথে সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে। ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে । যথা:
ক. সারদা (কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ)
খ. নাগর (রাজস্থান, মালব, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ)
গ. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)।
বাংলা লিপির উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ ‘পূর্বী লিপি’থেকে। সম্রাট অশোক তাঁর অধিকাংশ কর্ম ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান। পাল শাসন আমলে বাংলা লিপির প্রসার ঘটে ও সেন আমলে এর গঠন কাজ শুরু হয় এবং পাঠান যুগে এটি সাময়িক স্থায়িত্ব লাভ করে।
বাংলা লিপির অক্ষর স্থায়িত্ব লাভ করে ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশনে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে। বাংলা লিপির অক্ষর বা বর্ণের আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার। নিচে বাংলা লিপির উৎপত্তির একটি ধারাবাহিক চিত্র সংযোজন করা হল।

চিত্রঃ বাংলা লিপির উৎপত্তি
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১. কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয় [ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ০৪-০৫]
- পাঠান যুগ
- সেন যুগ
- পাল যুগ
- মোগল যুগ
২. কোন শাসনামলে বাংলা লিপির স্থায়ী রূপ তৈরি করে অক্ষর গঠনের কাজ শুরু হয় ? [খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক: ১১ ]
- সেন যুগ
- পাঠান যুগ
- পাল যুগ
- মোগল যুগ
৩. ভারতীয় মৌলিক লিপি কোনটি ? [ জাবি (খ-ইউনিট): ০৪-০৫]
- ব্রাহ্মী
- কুটিল
- খরোষ্ঠী
- নাগরী
৪. বাংলা লিপির উৎস কি / বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে কোন প্রাচীন লিপি থেকে ? [১৪তম বিসিএস / ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন: ১৯ ]
- সংস্কৃত
- চীনা লিপি
- আরবি লিপি
- ব্রাহ্মী লিপি
৫. ভারতীয় কোন লিপিমালা ডানদিক থেকে লেখা হয় ? [ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন জুনিয়র অডিটর: ১১]
- হিন্দি
- মারাঠি
- গুজরাটি
- খরোষ্ঠী
৬. বাংলা লিপির প্রথম নিদর্শন পাওয়া যায়- [ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার: ২২ ]
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
- চর্যাপদ
- বৈষ্ণব পদাবলী
- মঙ্গলকাব্য
৭. বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি কোনটি ? [ বিআরডিবি'র সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা: ২৩]
- ব্রাহ্মী
- মণিপুরি
- বাংলা
- কুটিল
৮. কোন শাসকের অনুশাসনের সময় এ উপমহাদেশে আর্যভাষার প্রাচীনতম বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় ? [ সমন্বিত ৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিসার: ২৩]
- সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট আকবর
- সম্রাট অশোক
- সম্রাট বাবর