Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

অধ্যায় ১ঃ রসায়নের ধারণা

 প্রাকৃতিক বিজ্ঞান কাকে বলে ?

বিজ্ঞানের যে শাখায় যুক্তি দিয়ে, পর্যবেক্ষণ করে অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কোনাে বিষয় সম্বন্ধে বােঝা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়া বা সে সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় তাকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বলে।

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ কী ?

বিজ্ঞানের একটি শাখা হলাে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (Natural Science)। যুক্তি দিয়ে, পর্যবেক্ষণ করে অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কোনাে বিষয় সম্বন্ধে বােঝা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়া বা সে সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করাই হলাে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ।

রসায়ন কাকে বলে? রসায়ন কী?

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলােচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।

রসায়ন কাকে বলে? প্রশ্নটির উত্তর আমরা অন্যভাবেও দিতে পারি। যেমন:

বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন (কাঠামো), উপাদান(কি কি মৌল দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় হয়), ভৌত ধর্ম, রাসায়নিক ধর্ম, পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া ও বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থ,উৎপন্ন তাপ বা শোষিত তাপ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে রসায়ন বলা হয়।

রসায়নের শাখাসমূহ:

রসায়নে প্রধানত ৫ শাখা বা বিভাগ রয়েছে।
১. জৈব রসায়ন বা Organic Chemistry
২. অজৈব রসায়ন বা Inorganic Chemistry
৩. ভৌত রসায়নবা Physical Chemistry
৪. বিশ্লেষণী রসায়ন বা Analytical Chemistry
৫. প্রাণরসায়ন বা Bio Chemistry

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের শাখাগুলো কী কী ?

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের শাখাগুলো :
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদার্থবিজ্ঞান (Physics), রসায়ন (Chemistry), উদ্ভিদবিদ্যা (Botany), প্রাণিবিদ্যা (Zoology), অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology), জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy), মৃত্তিকাবিজ্ঞান (Soil Science) ইত্যাদি শাখা রয়েছে।

কখন থেকে রসায়নের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে ?

সম্ভবত প্রথম যেদিন দুটি পাথরকে ঘষে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখল সেসময় থেকেই এই রসায়নের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে।

প্রথম ব্যবহৃত ধাতু কী এবং প্রাচীনকাল থেকে মানুষ কী কী ধাতু ব্যবহার করছে ?

প্রথম ব্যবহৃত ধাতু হলাে সােনা। এছাড়া সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তামা বা কপার, রুপা, টিন এসব ধাতু ব্যবহার করছে।

সংকর ধাতু কাকে বলে ? সংকর ধাতু কী ?

কতকগুলাে ধাতুকে একত্রে গলানাের পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়।
অথবা
কোনাে গরম গলিত ধাতুর মধ্যে অন্য কোনাে গরম গলিত ধাতু বা অধাতু মিশিয়ে সেই মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে কঠিন পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সংকর ধাতু।

ব্রোঞ্জ কী ? ব্রোঞ্জ কাকে বলে ?

কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এবং এ দুটি তরলকে একত্র মিশিয়ে অতঃপর মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করে কঠিন সংকর ধাতুতে (alloy) পরিণত করা হয়। এ সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ। ব্রোঞ্জ এ Cu=90% ও Sn=10% থাকে ।

কখন ব্রোঞ্জ অবিষ্কার হয় ?

খ্রিস্টপূর্ব 3500 অব্দের দিকে কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এবং এ দুটি তরলকে একত্র মিশিয়ে অতঃপর মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করে কঠিন সংকর ধাতুতে (alloy) পরিণত করা হয়। এ সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ

ব্রোঞ্জ কেন ব্যবহার করা হতো ?

খ্রিষ্টপূর্ব 3000 থেকে 1000 পর্যন্ত সময়কালকে বলা হয় ব্রোঞ্জ যুগ। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করতে ধাতুর চেয়ে সংকর ধাতু বেশি উপযােগী। ব্রোঞ্জ দিয়ে ভালাে মানের অস্ত্র তৈরি করা হতাে। তখনকার মানুষ পশু শিকার, ফসল ফলানাে, জ্বালানি হিসেবে কাঠ সংগ্রহসহ প্রয়ােজনীয় অনেক কাজে এ অস্ত্র ব্যবহার করত। এ ব্রোঞ্জ তখনকার মানবজাতির জন্য এক অতিপ্রয়ােজনীয় পদার্থে পরিণত হয়। ব্রোঞ্জ-এর আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।

গ্রিক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস পদার্থের গঠন সমন্ধে কী ঘােষণা করেন ?

খ্রিস্টপূর্ব 38০ অব্দের দিকে গ্রিক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস ঘােষণা করেন যে, প্রত্যেক পদার্থকে ভাঙতে থাকলে শেষ পর্যায়ে এমন এক ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে যাকে আর ভাঙা যাবে না। তিনি এর নাম দেন অ্যাটম (Atom অর্থ indivisible বা অবিভাজ্য)।

অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা পদার্থের গঠন সমন্ধে কী মনে করতেন ?

অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস মিলে তৈরি হয়।

রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা সমন্ধে আলোচনা করো ?

মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ কপার, টিন, সিসা এসব স্বল্পমূল্যের ধাতু থেকে সােনা তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলেন। তাদের আরেকটি চেষ্টা ছিল এমন একটি মহৌষধ তৈরি করা, যা খেলে মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে যাবে। তারা অবশ্য এগুলােতে সফল হননি। তবে তারা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন। ফলে সােনা বানাতে না পারলেও বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সােনার মতাে দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন এবং তাদের এ পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলাে লিখে রেখেছিলেন। মূলত এগুলােই ছিল রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা।

Chemistry বা রসায়ন শব্দের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো

মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতাে আর গবেষকদের বলা হতাে আলকেমিস্ট (Alchemist)। আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই chemi শব্দ থেকেই chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলাে রসায়ন।

কে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন ?

আলকেমিস্ট জাবির ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন।

রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলাে জাবির ইবনে-হাইয়ান এর কাছে পরিষ্কার ছিল না কেন ?

জাবির ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তাই তিনি গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলাে তার কাছে পরিষ্কার ছিল না।

রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন কারা ?

রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী।

কাকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়?

অ্যান্টনিকে ল্যাভয়সিয়ে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।

কাঁচা আম টক কিন্তু পাকা আম মিষ্টি লাগে কেন ?

আমরা জানি, এসিড  টক স্বাদযুক্ত । কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে যেমন; সাক্সিনিক এসিড (C4H6O4), ম্যালেয়িক এসিড(C4H4O4) প্রভৃতি থাকে, ফলে কাঁচা আম টক। কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলাের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ(C6H12O6) ও ফুক্টোজের(C6H12O6) সৃষ্টি হয়। আর গ্লুকোজ ও ফুক্টোজ মিষ্টি স্বাদ যুক্ত। তাই পাকা আম মিষ্টি।

হাইড্রোকার্বন কাকে বলে? হাইড্রোকার্বন কী? হাইড্রোকার্বন বলতে কী বোঝ?

হাইড্রোকার্বন: শুধুমাত্র কার্বন  হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে । যেমন-কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মােম এগুলাের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন|

অন্যভাবে বলা যায়, যে সকল জৈব যৌগসমূহ  শুধুমাত্র  কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলে। আবার আর একভাবে বলা যায়,  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত জৈব যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।যেমন: মিথেন (CH4) ইথিন (C2H4) সাইক্লোহেক্সেন (C6H12) বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি ৷

কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মােমের দহন ব্যাখ্যা করো ।

কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মােম এগুলাের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। হাইড্রোকার্বন হচ্ছে শুধুমাত্র কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। তাই যখন এগুলাের দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলাের বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলাে আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাস(CH4) + O2 → CO2 + H2O(g) + আলাে + তাপশক্তি

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (CH4)

পেটের এসিডিটির জন্য এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া হয় কেন ?

খাদ্য হজম করতে পাকস্থলীতে হাইড্রাক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়। পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড । এরা ক্ষারজাতীয় পদার্থ। তাই পেটের অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে এরা প্রশমিত করে। তাই পেটের এসিডিটির জন্য অথবা পেটের জ্বালা পোড়া সমস্যা সমাধানের জন্য এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া হয় ।

Al(OH)3 + 3HCl → AlCl3 + 3H2O

Mg(OH)2 + 2HCl → MgCl2 + 2H2O

আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত রাসায়নিক পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। ব্যাখ্যা করো ।

যেখানে পদার্থ আছে সেখানেই রসায়ন আছে। বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ থাকে। বায়ুমণ্ডলে কিছু না কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন অনবরত ঘটছে। আমরা যে মাটির উপরে বসবাস করছি সে মাটিতেও প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাচ্ছে অসংখ্য পরিবর্তন।
শুধু বর্তমান সময় কেন, সুদূর অতীতেও এই পরিবর্তন ঘটেছে। যখন এ পৃথিবীর প্রথম জন্ম হলাে তখন পৃথিবী এমন ছিল না, পৃথিবী ছিল খুবই উত্তপ্ত। সেখানে কোনাে বাতাস ছিল না। ছিল না কোনাে জীবের অস্তিত্ব। কোটি কোটি বছর ধরে ঘটেছে অসংখ্য রাসায়নিক পরিবর্তন। সৃষ্টি হয়েছে বায়ুমণ্ডল, সৃষ্টি হয়েছে পানি, সৃষ্টি হয়েছে হাজারাে রকমের পদার্থ। এই সবকিছু মিলে পৃথিবীকে জীবজগতের জন্য বসবাস উপযােগী করেছে। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ তা ক্ষুদ্র অণুজীব (যেমন- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি) হােক আর বৃহৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীই হােক সকলের দেহই বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি দেহ হলাে এক একটি বড় রাসায়নিক কারখানা। এখানে প্রতি মুহূর্তেই ঘটে চলেছে অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া। আর সে জন্যই আমরা বেঁচে আছি।
আবার, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করে চলেছে আমাদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী। যেমন- আমরা যে জামাকাপড় পরি , যে পেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কারকরি, যে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায় বা ত্বকে যে কসমেটিকস ব্যবহার করি তা সবই রসায়নের অবদান। এছাড়া আমরা পরিষ্কারের কাজে সাবান, টয়লেট ক্লিনার, জীবন রক্ষার জন্য ব্যবহার করি বিভিন্ন ধরনের ওষুধসামগ্রী।
আমাদের খাদ্য চাহিদাকে পূরণ করার জন্য ফসলের ক্ষেতে ব্যবহার করি সার ও কীটনাশক। যানবাহনে ব্যবহার করি পেট্রল, ডিজেল এসবই শিল্প ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হয় ।
আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ঘটে যাচ্ছে নানা ধরণের রাসায়নিক। নিচে রসায়নের কিছু অতি প্রয়ােজনীয় ক্ষেত্রের উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো ।
বস্তু/পদার্থউপাদানউৎস ও রাসায়নিক পরিবর্তন
বায়ুপ্রধানত অক্সিজেন

আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় যে বায়ু গ্রহণ করি সেই বায়ুরঅক্সিজেন শরীরের ভেতরে খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপাদন করে। একে শ্বসন বলে যা একটি বিপাকীয় ক্রিয়া।

 C6H12O6    + 6O2  → 6CO2  + 6H2O + শক্তি

খাবারের পানিপানিসহ বিভিন্ন খনিজ লবণ।পানি আমাদের শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি শরীরের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থের দ্রাবক হিসেবেও কাজ করে। জীবের শরীরের বেশির ভাগই পানি। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ এ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে প্রস্রাব ও ঘামের সাহায্যে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। খাবারের পানিতে পানি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণ যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি ধাতুর লবণ(আয়ন হিসাবে)থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। 
সারনাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামউল্লিখিত মৌলগুলাে উদ্ভিদের জন্য খুব প্রয়ােজনীয় উপাদান। বিভিন্ন সারে এসব মৌলের যৌগ থাকে। তাই বিভিন্ন ধরনের সার উদ্ভিদের প্রয়ােজনীয় পুষ্টি প্রদান করে। ফলে ফসলের উৎপাদন ভালাে হয়।
কাগজসেলুলােজ(C6H10O5)nকাগজের আবিষ্কার মানব সভ্যতার এক অনন্য অবদান। বাঁশ, আখের ছােবড়া ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে সেলুলােজ থাকে। কাগজ তৈরির কারখানায় এই সমস্ত বস্তুকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাগজ তৈরি করা হয়।

সার কাকে বলে? সার কী? সার বলতে কী বোঝ? সার এর সংজ্ঞা দাও

সার:  যে সকল রাসায়নিক পদার্থ কার্বন, ফসফরাস, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি মৌলের সমন্বয়ে গঠিত এবং যা উদ্ভিদের প্রয়ােজনীয় পুষ্টি প্রদান করে তাদেরকে সার বলে।

জীব যে খাবার গ্রহণ করে তা থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়?

জীব যে খাবার গ্রহণ করে তা থেকে বিপাকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় যে বায়ু গ্রহণ করি সেই বায়ুর অক্সিজেন শরীরের ভেতরে খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করে। 

C6H12O6    + 6O2  → 6CO2  + 6H2O + শক্তি

এভাবে জীবদেহে খাবার থেকে  শক্তি উৎপন্ন হয় ।

রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক:

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। যেমন- রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ইত্যাদি। বিজ্ঞানের একটি শাখার সাথে অন্য একটি শাখার গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন রসায়নের উপর নির্ভরশীল, রসায়নও তেমনি অন্যান্য শাখার উপর নির্ভরশীল। নিচে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাথে রসায়নের সম্পর্ক কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলাে:

জীববিজ্ঞানের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় তার সবুজ অংশে গ্লুকোজ তৈরি করে। সালােকসংশ্লেষণ মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মূল দিয়ে পানি শােষণ করে। উদ্ভিদ সূর্যালােকের উপস্থিতিতে সবুজ অংশের ক্লোরােফিলের সাহায্যে এই পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 

6CO2+12H2Oসূর্যালােক,ক্লোরােফিলC6H12O6+6O2+6H2O

বিভিন্ন প্রাণী যে শর্করা বা প্রােটিন জাতীয় খাবার খায় শরীর সেই খাবার ভেঙে গ্লুকোজ, অ্যামাইনাে এসিড ইত্যাদি উৎপন্ন করে। সমগ্র জীবদেহই রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের এ সকল রাসায়নিক পদার্থ ও তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া জীববিজ্ঞানে আলােচনা করা হয়। তাই জীববিজ্ঞান ও রসায়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

পদার্থবিজ্ঞানের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: পদার্থবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে চুম্বক, বিদ্যুৎ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ইত্যাদি৷ বিদ্যুতের জন্য যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তা রসায়নেরই অবদান। তেল, গ্যাস বা কয়লা পুড়িয়ে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা দিয়ে যানবাহন চলে, বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। রসায়নও আবার পদার্থবিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। ভৌত রসায়ন হলাে রসায়নের একটি শাখা যার বিভিন্ন তত্ত্ব মূলত পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্ব এবং সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

গণিতের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: রসায়নের সাথে গণিতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গণিতের সূত্র ব্যবহার করেই রসায়নের বিভিন্ন তত্ত্ব ও হিসাব-নিকাশ করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞানের আরও যে সমস্ত শাখা আছে তার প্রায় সব শাখার সাথেই রসায়নের প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

রসায়ন পাঠের গুরুত্ব । আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব:
আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম । আমরা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্রাশে একটু পেস্ট লাগিয়ে দাঁত মাজি। তারপর বই নিয়ে পড়তে বসে পড়ার সময় চা আর বিস্কুট খাই । বাথরুমটা একটু নােংরা হলে টয়লেট ক্লিনার দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করি। গােসল করার সময় আমরা ব্যবহার করি সুগন্ধি সাবান আর শ্যাম্পু। গােসল শেষে গায়ে একটু লােশন মাখি । তারপর সকালের নাশতা করি । স্কুলে শিক্ষক চক দিয়ে বাের্ডে লিখে পড়া বুঝিয়ে দেন । অর্থাৎ আমরা যে জিনিসগুলাে ব্যবহার করি যেমন- পেস্ট, ব্রাশ, বিস্কুট, টয়লেট ক্লিনার, সাবান, শ্যাম্পু, লােশন কিংবা চক সবই রসায়নের অবদান।
এছাড়া জমিকে উর্বর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে সার। ক্ষেতের ফসল যেন পােকা-মাকড়ে নষ্ট না করে তার জন্য মানুষ তৈরি করেছে কীটনাশক (insecticides)। খাদ্যকে দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করার জন্য তৈরি করেছে প্রিজারভেটিভস (preservatives) জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। অর্থাৎ চাষাবাদ কিংবা খাদ্যের জন্য আমরা রসায়নের উপর নির্ভর করি । আজ কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা ইত্যাদি যে সমস্ত রােগ মানুষের জন্য অতি সাধারণ চিকিৎসাযােগ্য রােগ, একসময় এ ধরনের রােগেই লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। রসায়নের জ্ঞান ব্যবহার করে মানুষ এ সকল রােগের ওষুধ সফলতার সাথে আবিষ্কার করেছে। এখন ওষুধের আবিষ্কার এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে ক্যানসারের মতাে মরণব্যাধি থেকেও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে রক্ষা পেয়েছে।
শিল্পকারখানা, যানবাহন, মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে। এর মাঝে রয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইড(CO2), কার্বন মনােক্সাইড(CO), সালফার ডাই-অক্সাইড(SO2), বিভিন্ন এসিড, বিভিন্ন ভারী ধাতু (যেমন- পারদ(Hg), লেড(Pb), আর্সেনিক(As), কোবাল্ট(Co) ইত্যাদি) সহ আরও অনেক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলাে বায়ুর সাথে মিশে বায়ুদূষণ, পানির সাথে মিশে পানিদূষণ এবং অন্যান্য উপায়ে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করেই চলেছে। এগুলাে বিভিন্ন উদ্ভিদ বা মাছের শরীরে প্রবেশ করে তাদের ক্ষতিসাধন করছে। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ। যেমন— ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকারক পােকা-মাকড় ধ্বংস করার কাজে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তা প্রয়ােজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ঐ অতিরিক্ত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পুকুর, নদ-নদী, খাল-বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে যা ঐ পানিকে দূষিত করে। আবার, বাতাসের সাথে মিশে বাতাসকে দূষিত করে অর্থাৎ কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। রসায়ন পাঠ করে এ রকম প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনের অনেক কিছুই আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি
অর্থাৎ রসায়ন একদিকে যেমন অনেক প্রয়ােজনীয় ও মূল্যবান জিনিস আবিষ্কার করছে, তেমনই তার অযৌক্তিক এবং অবিবেচকের মতাে ব্যবহার পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে। এখনাে অনেক রােগের ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। আরও রসায়ন অধ্যয়ন ও গবেষণা করে সেসব ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করা এখন আমাদের দায়িত্ব। কাজেই রসায়ন পাঠ করে একদিকে আমরা যেরকম মানবকল্যাণের জন্য প্রয়ােজনীয় অনেক নতুন জিনিস তৈরি করতে পারি , একই সাথে পরিবেশের জন্য কোনটি ক্ষতিকর সেটি বুঝতেও পারি । সুতরাং আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রিজারভেটিভস কী? প্রিজারভেটিভস কাকে বলে? প্রিজারভেটিভস বলতে কী বোঝ?

প্রিজারভেটিভস:
যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয়, পচন হয় না অর্থাৎ খাদ্যসামগ্রীকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায় সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।

রাসায়নিক বর্জ্য কীভাবে আমাদের পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে?

শিল্পকারখানা, যানবাহন, মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে। এর মাঝে রয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনােক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, বিভিন্ন এসিড, বিভিন্ন ভারী ধাতু (যেমন- পারদ, লেড, আর্সেনিক, কোবাল্ট ইত্যাদি) সহ আরও অনেক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলাে বায়ুর সাথে মিশে বায়ুদূষণ, পানির সাথে মিশে পানিদূষণ এবং অন্যান্য উপায়ে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করেই চলেছে। এগুলাে বিভিন্ন উদ্ভিদ বা মাছের শরীরে প্রবেশ করে তাদের ক্ষতিসাধন করছে। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ। যেমন— ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকারক পােকা-মাকড় ধ্বংস করার কাজে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তা প্রয়ােজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ঐ অতিরিক্ত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পুকুর, নদ-নদী, খাল-বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে যা ঐ পানিকে দূষিত করে। আবার, বাতাসের সাথে মিশে বাতাসকে দূষিত করে অর্থাৎ কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

বিজ্ঞান কী? বিজ্ঞান কাকে বলে? বিজ্ঞান বলতে কী বোঝ? বিজ্ঞান এর সংজ্ঞা দাও?

বিজ্ঞান: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পদ্ধতিগতভাবে যে সুসংবদ্ধ জ্ঞান অর্জন হয় সেই জ্ঞানই হলাে বিজ্ঞান।

গবেষণা কী? গবেষণা কাকে বলে? গবেষণা বলতে কী বোঝ? গবেষণা এর সংজ্ঞা দাও?

গবেষণা: সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনাে কিছু জানার নামই গবেষণা।

বিজ্ঞানী কাকে বলে? বিজ্ঞানী কারা? কাদেরকে বিজ্ঞানী বলা হয়?

বিজ্ঞানী:যিনি এই গবেষণা করেন তিনিই বিজ্ঞানী।
যেমন :আমরা অনেক মহান মনীষীর ও বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারি। আইনস্টাইন, নিউটন, আর্কিমিডিস, ল্যাভয়সিয়ে, গ্যালিলিও।

রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো।

রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:
বিজ্ঞানের লক্ষ্য হলাে মানবজাতির কল্যাণসাধন করা। এ উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পদ্ধতিগতভাবে যে সুসংবদ্ধ জ্ঞান অর্জন হয় সেই জ্ঞানই হলাে বিজ্ঞান। আর এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনাে কিছু জানার চেষ্টাই হচ্ছে গবেষণা। যিনি এই গবেষণা করেন তিনিই বিজ্ঞানী। সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনাে কিছু জানার নামই গবেষণা। গবেষণার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। রসায়ন গবেষণারও পদ্ধতি রয়েছে। এখন রসায়ন গবেষণার পদ্ধতি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো।
বিষয় নির্বাচন বা বিষয়বস্তু নির্ধারণ:
গবেষণার জন্য প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে যে আমরা কী জানতে চাই বা কোন ধরনের নতুন পদার্থ আবিষ্কার করতে চাই । ধরি, আমরা জানতে চাই, অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডকে পানিতে দ্রবীভূত করলে তাপ উৎপাদিত হবে না শােষিত হবে? একে বলে বিষয় নির্বাচন বা বিষয়বস্তু নির্ধারণ।
বই বা পূর্বের গবেষণাপত্রের সাহায্যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু ধারণা নেওয়া:
আমাদের সবার আগে এই বিষয়ে কিছু বইপত্র পড়তে হবে অথবা এ ধরনের অন্য কোনাে পরীক্ষা আগে করা হয়েছে এমন ধরনের গবেষণাপত্র ইন্টারনেট থেকে বা অন্য কোনােভাবে সংগ্রহ করে তা থেকে ফলাফল সম্পর্কে আগেই একটি অনুমান করে নিতে হবে। ধরি আমরা কোনাে বই বা গবেষণাপত্র থেকে জানতে পেলে ক্যালসিয়াম অক্সাইড পানিতে দ্রবীভূত হলে তাপ সৃষ্টি হয়। আমরা এই গবেষণাপত্র থেকে আরাে জানতে পারবো ক্যালসিয়াম অক্সাইড পানিতে দ্রবীভূত করার জন্য কোন কোন যন্ত্রপাতি, কোন কোন রাসায়নিক পদার্থ এবং কোন প্রণালি ব্যবহার করা হয়েছিল। এ থেকে আমাদের পরীক্ষাটি (অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডকে পানিতে দ্রবীভূত করা) করার জন্য কী কী পাত্র, যন্ত্রপাতি বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে হবে এবং কোন প্রণালি অনুসরণ করতে হবে সে সম্পর্কে ধারণা পাবো। আমরা হয়তাে মনে করলাম অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডকে পানিতে দ্রবীভূত করলে তাপ উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ আমরা ফলাফল সম্পর্কে অনুমান করতে পারলাম।
প্রয়ােজনীয় বস্তু ও পরীক্ষা প্রণালি নির্ধারণ:
আবার, প্রয়ােজনীয় দ্রব্য এবং কোন প্রণালিতে আমরা পরীক্ষাটি করবো সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। আমরা ধারণা পেয়েছি যে এ পরীক্ষাটি করতে বিকার, পানি, অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড, থার্মোমিটার, কাচের তৈরি রড, ব্যালেন্স (নিক্তি) ইত্যাদি জিনিস লাগবে। প্রথমে বিকারে পানি নিতে হবে। তারপর থার্মোমিটার দিয়ে পানির তাপমাত্রা নিতে হবে। তারপর কয়েকবার করে ওজন করে অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড বিকারের পানিতে যােগ করতে হবে এবং কাচের রড দিয়ে সেটুকুকে দ্রবীভূত করতে হবে। প্রতিবার থার্মোমিটারের সাহায্যে পানির তাপমাত্রা দেখে নিতে হবে। এটি হলাে প্রণালি যার সাহায্যে আমরা পরীক্ষাটি করবো । এবার শুরু হবে আমাদের পরীক্ষণ।
পরীক্ষণ:
আমরা বিকারে 250 মিলি পানি নিয়ে এর তাপমাত্রা থার্মোমিটারে দেখে নিবো । ধরি, এখন তাপমাত্রা 25°C। আমরা এটি খাতায় লিখে রাখবো। এবার ব্যালেন্সের সাহায্যে 5 গ্রাম অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড মেপে নিয়ে বিকারের পানিতে দিবো। কাচদণ্ড দিয়ে নেড়ে নেড়ে অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডটুকু দ্রবীভূত করবো। দ্রবীভূত হবার সঙ্গে সঙ্গে থার্মোমিটার দিয়ে আবার তাপমাত্রা মাপবো । ধরি, এবার তাপমাত্রা 20°C হলাে। ব্যালেন্সের সাহায্যে আবার 5 গ্রাম অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড বিকারের দ্রবণে একইভাবে দ্রবীভূত করবো । এতে বিকারের দ্রবণে মােট অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড হলাে 10 গ্রাম। এই রকম পরীক্ষা আরও একবার করবো।তৃতীয়বারে বিকারে অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ হলাে 15 গ্রাম এবং ধরি দ্রবণের তাপমাত্রা হলাে 10°C।
তথ্য সংগ্রহ ও তথ্যের বিশ্লেষণ:
প্রতিটি ধাপে প্রাপ্ত তথ্য (Data) খাতায় লিখে রাখবো। এবার আমরা প্রাপ্ত তথ্যগুলাে সাজাবো এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করবো। 
তথ্যগুলাে নিম্নরূপ:
বিকারে দ্রবীভূত অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ দ্রবণের তাপমাত্রা
0 গ্রাম (দ্রবীভূত করা হয়নি) 25°C
5 গ্রাম 20°C
10 গ্রাম 15°C
15 গ্রাম 10°C
তথ্যগুলাে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে দ্রবণে অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড যত বেশি পরিমাণে দ্রবীভূত হচ্ছে দ্রবণের তাপমাত্রা তত কমে যাচ্ছে।
ফলাফল ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা:
উপরের তথ্যগুলাে বিশ্লেষণ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি, যেহেতু পানিতে অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবীভূত করলে দ্রবণের তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে, তাই অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড পানি থেকে তাপ শােষণ করে দ্রবীভূত হচ্ছে। অর্থাৎ ফলাফল (Result) এই যে, অ্যামােনিয়াম ক্লোরাইড পানিতে দ্রবীভূত করলে তাপ শােষিত হয়। উপরের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আমরা যে সকল ধাপ অনুসরণ করেছি সেগুলােকে ফ্লো চার্ট (Flow Chart) বা প্রবাহমান তালিকার মাধ্যমে নিম্নরূপে দেখানাে যায়।


রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ

রসায়নের যেকোনাে পরীক্ষা বা গবেষণার জন্য সব সময় উপরের ধাপগুলাে অনুসরণ করতে হবে।

গবেষণাগার (LABORATORY)কাকে বলে? গবেষণাগার কী? গবেষণাগার বলতে কী বোঝ?

গবেষণাগার (LABORATORY):
যেখানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গবেষণা করা হয় তাকে পরীক্ষাগার বা গবেষণাগার (Laboratory) বলে।

রসায়ন গবেষণাগার (CHEMISTRY LABORATORY)কাকে বলে? রসায়ন গবেষণাগার কী ?

রসায়ন গবেষণাগার(CHEMISTRY LABORATORY):
যেখানে রসায়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা করা হয় তাকে রসায়ন পরীক্ষাগার বা রসায়ন গবেষণাগার (Chemistry Laboratory) বলে।

রসায়ন পরীক্ষাগারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে কেন?

রসায়ন পরীক্ষাগারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা:
রসায়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা করা হয় তাকে রসায়ন পরীক্ষাগার বা রসায়ন গবেষণাগার (Chemistry Laboratory) বলে। রসায়ন গবেষণাগারে থাকবে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। প্রায় প্রত্যেকটি রাসায়নিক দ্রব্যই আমাদের জন্য অথবা পরিবেশের জন্য কম-বেশি ক্ষতিকর। কোনাে রাসায়নিক দ্রব্য বিস্ফোরক জাতীয়, কোনাে রাসায়নিক দ্রব্য দাহ্য (সহজেই যাতে আগুন ধরে যায়), কোনােটি আমাদের শরীরের সরাসরি ক্ষতি করে আবার কোনােটি পরিবেশের ক্ষতি করে। রসায়ন পরীক্ষাগারে যে যন্ত্রপাতি বা পাত্র ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই কাচের তৈরি। তাই এ রসায়ন পরীক্ষাগারে ঢোকা থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অসতর্ক হলেই যেকোনাে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যেমন- এসিড গায়ে পড়লে তােমার শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হবে। পােশাকে পড়লে তােমার পােশাকটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া রসায়ন গবেষণাগারে অগ্নিকাণ্ড বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের ছােট-বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রসায়ন পরীক্ষাগারে আমরা কীভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারি?

রসায়ন পরীক্ষাগারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা:
রসায়ন পরীক্ষাগারে ঢোকা থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অসতর্ক হলেই যেকোনাে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। শরীরকে রক্ষা করতে আমাদের পরতে হবে নিরাপদ পােশাক বা অ্যাপ্রােন (apron)। রসায়ন গবেষণাগারে ব্যবহৃত অ্যাপ্রােনের হাতা হবে হাতের কবজি পর্যন্ত আর লম্বায় হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। এটি হয় সাদা রঙের। হাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে হ্যান্ড গ্লাভস। চোখকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করতে হবে সেফটি গগলস । নাকে মুখে ব্যাবহার করতে হবে মাস্ক ।

GLOBALLY HARMONIZED SYSTEM বা G.H.S কী?

GLOBALLY HARMONIZED SYSTEM বা G.H.S:
যেকোনাে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের আগেই আমাদের সেই রাসায়নিক দ্রব্যটির প্রকৃতি অর্থাৎ সেটি কি বিস্ফোরক অথবা দাহ্য নাকি তেজস্ক্রিয় তা জেনে নিতে হবে। সেটি বােঝানাের জন্য রাসায়নিক পদার্থের বােতল বা কৌটার লেবেলে এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সর্বজনীন নিয়ম (Globally Harmonized system) চালু আছে । এই নিয়মকে Globally Harmonized system বলে।

পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বােঝনাের জন্য সর্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বােঝনাের জন্য সর্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন:
যেকোনাে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের আগেই আমাদের সেই রাসায়নিক দ্রব্যটির প্রকৃতি অর্থাৎ সেটি কি বিস্ফোরক অথবা দাহ্য নাকি তেজস্ক্রিয় তা জেনে নিতে হবে। সেটি বােঝানাের জন্য রাসায়নিক পদার্থের বােতল বা কৌটার লেবেলে এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সর্বজনীন নিয়ম (Globally Harmonized system) চালু আছে । এই নিয়মকে Globally Harmonized system বলে । নিয়মটি চালুর বিষয়কে সামনে রেখে জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ ও উন্নয়ন নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে বিভিন্ন পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বােঝনাের জন্য সর্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন নির্ধারণ করা হয়।

সাংকেতিক চিহ্ন ও সাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের ঝুঁকি ও তার মাত্রা, সাবধানতা উদাহরণসহ সংক্রান্ত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করো।

সাংকেতিক চিহ্নপদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রাসাবধানতা উদাহরণ

 

বিস্ফোরক পদার্থ

যে সকল পদার্থ অস্থিতিশীল এবং নিজে নিজেই বিক্রিয়া করতে পারে তাদেরকে বিস্ফোরক পদার্থ বলে।

 

বিস্ফোরক পদার্থ চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থ থেকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আঘাত লাগলে বা আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

এইসব রাসায়নিক উপাদান চাপ,  তাপ ,ঘর্ষণ ও আঘাতের ফলে বিস্ফোরিত হয়ে থাকে।

এ দ্রব্যগুলাে খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে। 

 

এই পদার্থগুলোকে খুব সাবধানে নিরাপদ স্থানে ল্যাবরেটরি একপাশে সংরক্ষণ করা উচিত। ঘর্ষণ হতে পারে এমন অবস্থা এড়িয়ে রাখা, অন্য পদার্থের সাথে মিশ্রণের সময় অতি ধীরে যুক্ত করা,  তাপ ও আগুন থেকে দূরে রাখা উচিত। 

টিএনটি(ট্রাই নাইট্রো টলুইন),জৈবপার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ।

 

 

দাহ্য পদার্থ(Flammable substance)

দাহ্য পদার্থ(Flammable substance)

যে সকল পদার্থে খুব সহজেই আগুন ধরে যায় এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, তাদেরকে দাহ্য পদার্থ বলে। দাহ্য পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। এসব পদার্থ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় হতে পারে । এরা বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে। এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। ঘর্ষণ হতে পারে এমন অবস্থা এড়িয়ে রাখতে হবে। 

অ্যালকোহল,ইথার ইত্যাদি।

 

এছাড়াও অ্যারোসল, পেট্রোলিয়াম, টলুইন ইত্যাদি। 

 

বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance)

বিষাক্ত পদার্থ

(Toxic substance)

বিষাক্ত পদার্থ চিহ্নধারী পদার্থ বিষাক্ত প্রকৃতির। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক  ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।বেনজিন, ক্লোরােবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ।

 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance)

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance)

উত্তেজক পদার্থ ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। উত্তেজক পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক এগুলাে ব্যবহার করতে হবে।সিমেন্ট ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ

 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance)

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance)

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলাে শরীরের মধ্যে গেলে ক্যানসারের মতাে কঠিন রােগ হতে পারে কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করতে পারে। এই পদার্থগুলােকে সতর্কভাবে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক এগুলাে পরে নিতে হবে।বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি। 
তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance)

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance)

তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতাে মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। তাই এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়ােজন।ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ।

 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment)

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment)

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর চিহ্নধারী পদার্থগুলাে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। এগুলােকে ব্যবহারের সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়ােজন। আবার, ব্যবহারের পরে যেখানে-সেখানে না ফেলে তা একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। এসব পদার্থকে যথাসম্ভব  পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এগুলাে সহজে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না।লেড, মার্কারি ইত্যাদি৷ 

 

ক্ষত সৃষ্টিকারী  (Corrosive)

ক্ষত সৃষ্টিকারী  (Corrosive)

ক্ষত সৃষ্টিকারী চিহ্নধারী পদার্থ শরীরে লাগলে শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে তা শরীরের ভেতরের অঙ্গেরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। এসব পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সােডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ।

সাংকেতিক চিহ্ন ও সাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের উদাহরণ ।

সাংকেতিক চিহ্নসাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের উদাহরণ

বিস্ফোরক পদার্থ

 

বিস্ফোরক পদার্থ (Explosive substance)

টিএনটি(ট্রাই নাইট্রো টলুইন),জৈব পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ।

দাহ্য পদার্থ(Flammable substance)

 

দাহ্য পদার্থ(Flammable substance)

অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। 

বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance)

 

বিষাক্ত পদার্থ

(Toxic substance)

বেনজিন, ক্লোরােবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance)

 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance)

সিমেন্ট ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance)

 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance)

এ ধরনের পদার্থের উদাহরণ হলাে বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance)

 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance)

যেমন- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment)

 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment)

এ ধরনের পদার্থের উদাহরণ হলাে লেড, মার্কারি ইত্যাদি৷ 

ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive)

 

ক্ষত সৃষ্টিকারী  (Corrosive)

হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সােডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ।

মরিচা কী? মরিচা কাকে বলে? মরিচা বলতে কী বোঝ?

মরিচা: মরিচা হলো আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড অর্থাৎ আর্দ্র ফেরিক অক্সাইডকে মরিচা বলে।
মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সুতরাং মরিচার রাসায়নিক সংকেত Fe2O3. nH2
এখানে n এর মান 1, 2, 3 ইত্যাদি যেকোনাে পূর্ণ সংখ্যা হতে পারে।
মরিচ কি তা আমরা অন্যভাবে বলতে পারি:
সাধারণত লোহা জাতীয় পর্দাথ বাহিরে মুক্ত বাতাসে অনেক দিন ফেলে রাখলে এটি বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে হালকা বাদামি বর্ণের প্রলেপ বা আস্তরণ পরে। এই আবরণ বা প্রলেপকে মরিচ বলে। এই প্রলেপ বা আস্তরণ রাসায়নিক নাম হাইড্রেটেড আয়রন অক্সাইড বা আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড।
মরিচ কি? প্রশ্নটির উত্তর ভিন্নভাবেও দেওয়া যায়:
জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে বিশুদ্ধ লোহা বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে যে রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে তাকে মরিচা বলে । মরিচা একটি ঝাঁঝরা জাতীয় পদার্থ।
Full Stack Web Developer & Content Creator

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...