প্রাকৃতিক বিজ্ঞান কাকে বলে ?
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ কী ?
রসায়ন কাকে বলে? রসায়ন কী?
বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলােচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।রসায়ন কাকে বলে? প্রশ্নটির উত্তর আমরা অন্যভাবেও দিতে পারি। যেমন:
রসায়নের শাখাসমূহ:
রসায়নে প্রধানত ৫ শাখা বা বিভাগ রয়েছে।১. জৈব রসায়ন বা Organic Chemistry
২. অজৈব রসায়ন বা Inorganic Chemistry
৩. ভৌত রসায়নবা Physical Chemistry
৪. বিশ্লেষণী রসায়ন বা Analytical Chemistry
৫. প্রাণরসায়ন বা Bio Chemistry
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের শাখাগুলো কী কী ?
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের শাখাগুলো :কখন থেকে রসায়নের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে ?
প্রথম ব্যবহৃত ধাতু কী এবং প্রাচীনকাল থেকে মানুষ কী কী ধাতু ব্যবহার করছে ?
সংকর ধাতু কাকে বলে ? সংকর ধাতু কী ?
ব্রোঞ্জ কী ? ব্রোঞ্জ কাকে বলে ?
কখন ব্রোঞ্জ অবিষ্কার হয় ?
খ্রিস্টপূর্ব 3500 অব্দের দিকে কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এবং এ দুটি তরলকে একত্র মিশিয়ে অতঃপর মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করে কঠিন সংকর ধাতুতে (alloy) পরিণত করা হয়। এ সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ।ব্রোঞ্জ কেন ব্যবহার করা হতো ?
গ্রিক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস পদার্থের গঠন সমন্ধে কী ঘােষণা করেন ?
অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা পদার্থের গঠন সমন্ধে কী মনে করতেন ?
অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস মিলে তৈরি হয়।রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা সমন্ধে আলোচনা করো ?
Chemistry বা রসায়ন শব্দের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো
কে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন ?
আলকেমিস্ট জাবির ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন।রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলাে জাবির ইবনে-হাইয়ান এর কাছে পরিষ্কার ছিল না কেন ?
রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন কারা ?
কাকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়?
অ্যান্টনিকে ল্যাভয়সিয়ে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।কাঁচা আম টক কিন্তু পাকা আম মিষ্টি লাগে কেন ?
আমরা জানি, এসিড টক স্বাদযুক্ত । কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে যেমন; সাক্সিনিক এসিড (C4H6O4), ম্যালেয়িক এসিড(C4H4O4) প্রভৃতি থাকে, ফলে কাঁচা আম টক। কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলাের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ(C6H12O6) ও ফুক্টোজের(C6H12O6) সৃষ্টি হয়। আর গ্লুকোজ ও ফুক্টোজ মিষ্টি স্বাদ যুক্ত। তাই পাকা আম মিষ্টি।
হাইড্রোকার্বন কাকে বলে? হাইড্রোকার্বন কী? হাইড্রোকার্বন বলতে কী বোঝ?
হাইড্রোকার্বন: শুধুমাত্র কার্বন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে । যেমন-কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মােম এগুলাের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন|
অন্যভাবে বলা যায়, যে সকল জৈব যৌগসমূহ শুধুমাত্র কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাদেরকে হাইড্রোকার্বন বলে। আবার আর একভাবে বলা যায়, হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত জৈব যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।যেমন: মিথেন (CH4) ইথিন (C2H4) সাইক্লোহেক্সেন (C6H12) বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি ৷
কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মােমের দহন ব্যাখ্যা করো ।
কেরােসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মােম এগুলাের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। হাইড্রোকার্বন হচ্ছে শুধুমাত্র কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। তাই যখন এগুলাের দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলাের বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলাে আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাস(CH4) + O2 → CO2 + H2O(g) + আলাে + তাপশক্তি
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (CH4)
পেটের এসিডিটির জন্য এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া হয় কেন ?
খাদ্য হজম করতে পাকস্থলীতে হাইড্রাক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়। পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড । এরা ক্ষারজাতীয় পদার্থ। তাই পেটের অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে এরা প্রশমিত করে। তাই পেটের এসিডিটির জন্য অথবা পেটের জ্বালা পোড়া সমস্যা সমাধানের জন্য এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া হয় ।
Al(OH)3 + 3HCl → AlCl3 + 3H2O
Mg(OH)2 + 2HCl → MgCl2 + 2H2O
আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত রাসায়নিক পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। ব্যাখ্যা করো ।
| বস্তু/পদার্থ | উপাদান | উৎস ও রাসায়নিক পরিবর্তন |
| বায়ু | প্রধানত অক্সিজেন | আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় যে বায়ু গ্রহণ করি সেই বায়ুরঅক্সিজেন শরীরের ভেতরে খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপাদন করে। একে শ্বসন বলে যা একটি বিপাকীয় ক্রিয়া। C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O + শক্তি |
| খাবারের পানি | পানিসহ বিভিন্ন খনিজ লবণ। | পানি আমাদের শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি শরীরের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থের দ্রাবক হিসেবেও কাজ করে। জীবের শরীরের বেশির ভাগই পানি। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ এ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে প্রস্রাব ও ঘামের সাহায্যে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। খাবারের পানিতে পানি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণ যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি ধাতুর লবণ(আয়ন হিসাবে)থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। |
| সার | নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম | উল্লিখিত মৌলগুলাে উদ্ভিদের জন্য খুব প্রয়ােজনীয় উপাদান। বিভিন্ন সারে এসব মৌলের যৌগ থাকে। তাই বিভিন্ন ধরনের সার উদ্ভিদের প্রয়ােজনীয় পুষ্টি প্রদান করে। ফলে ফসলের উৎপাদন ভালাে হয়। |
| কাগজ | সেলুলােজ(C6H10O5)n | কাগজের আবিষ্কার মানব সভ্যতার এক অনন্য অবদান। বাঁশ, আখের ছােবড়া ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে সেলুলােজ থাকে। কাগজ তৈরির কারখানায় এই সমস্ত বস্তুকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাগজ তৈরি করা হয়। |
সার কাকে বলে? সার কী? সার বলতে কী বোঝ? সার এর সংজ্ঞা দাও
সার: যে সকল রাসায়নিক পদার্থ কার্বন, ফসফরাস, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি মৌলের সমন্বয়ে গঠিত এবং যা উদ্ভিদের প্রয়ােজনীয় পুষ্টি প্রদান করে তাদেরকে সার বলে।জীব যে খাবার গ্রহণ করে তা থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়?
জীব যে খাবার গ্রহণ করে তা থেকে বিপাকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় যে বায়ু গ্রহণ করি সেই বায়ুর অক্সিজেন শরীরের ভেতরে খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করে।
C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O + শক্তি
এভাবে জীবদেহে খাবার থেকে শক্তি উৎপন্ন হয় ।
রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক:বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। যেমন- রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ইত্যাদি। বিজ্ঞানের একটি শাখার সাথে অন্য একটি শাখার গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন রসায়নের উপর নির্ভরশীল, রসায়নও তেমনি অন্যান্য শাখার উপর নির্ভরশীল। নিচে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাথে রসায়নের সম্পর্ক কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলাে:
জীববিজ্ঞানের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় তার সবুজ অংশে গ্লুকোজ তৈরি করে। সালােকসংশ্লেষণ মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মূল দিয়ে পানি শােষণ করে। উদ্ভিদ সূর্যালােকের উপস্থিতিতে সবুজ অংশের ক্লোরােফিলের সাহায্যে এই পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
বিভিন্ন প্রাণী যে শর্করা বা প্রােটিন জাতীয় খাবার খায় শরীর সেই খাবার ভেঙে গ্লুকোজ, অ্যামাইনাে এসিড ইত্যাদি উৎপন্ন করে। সমগ্র জীবদেহই রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের এ সকল রাসায়নিক পদার্থ ও তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া জীববিজ্ঞানে আলােচনা করা হয়। তাই জীববিজ্ঞান ও রসায়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
পদার্থবিজ্ঞানের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: পদার্থবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে চুম্বক, বিদ্যুৎ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ইত্যাদি৷ বিদ্যুতের জন্য যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তা রসায়নেরই অবদান। তেল, গ্যাস বা কয়লা পুড়িয়ে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা দিয়ে যানবাহন চলে, বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। রসায়নও আবার পদার্থবিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। ভৌত রসায়ন হলাে রসায়নের একটি শাখা যার বিভিন্ন তত্ত্ব মূলত পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্ব এবং সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
গণিতের সাথে রসায়নের সম্পর্ক: রসায়নের সাথে গণিতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গণিতের সূত্র ব্যবহার করেই রসায়নের বিভিন্ন তত্ত্ব ও হিসাব-নিকাশ করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞানের আরও যে সমস্ত শাখা আছে তার প্রায় সব শাখার সাথেই রসায়নের প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
রসায়ন পাঠের গুরুত্ব । আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
আমাদের জীবনে রসায়ন পাঠের গুরুত্ব:প্রিজারভেটিভস কী? প্রিজারভেটিভস কাকে বলে? প্রিজারভেটিভস বলতে কী বোঝ?
প্রিজারভেটিভস:রাসায়নিক বর্জ্য কীভাবে আমাদের পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে?
বিজ্ঞান কী? বিজ্ঞান কাকে বলে? বিজ্ঞান বলতে কী বোঝ? বিজ্ঞান এর সংজ্ঞা দাও?
বিজ্ঞান: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পদ্ধতিগতভাবে যে সুসংবদ্ধ জ্ঞান অর্জন হয় সেই জ্ঞানই হলাে বিজ্ঞান।গবেষণা কী? গবেষণা কাকে বলে? গবেষণা বলতে কী বোঝ? গবেষণা এর সংজ্ঞা দাও?
গবেষণা: সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনাে কিছু জানার নামই গবেষণা।বিজ্ঞানী কাকে বলে? বিজ্ঞানী কারা? কাদেরকে বিজ্ঞানী বলা হয়?
বিজ্ঞানী:যিনি এই গবেষণা করেন তিনিই বিজ্ঞানী।যেমন :আমরা অনেক মহান মনীষীর ও বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারি। আইনস্টাইন, নিউটন, আর্কিমিডিস, ল্যাভয়সিয়ে, গ্যালিলিও।
রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো।
রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ
রসায়নের যেকোনাে পরীক্ষা বা গবেষণার জন্য সব সময় উপরের ধাপগুলাে অনুসরণ করতে হবে।
গবেষণাগার (LABORATORY)কাকে বলে? গবেষণাগার কী? গবেষণাগার বলতে কী বোঝ?
গবেষণাগার (LABORATORY):যেখানে বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গবেষণা করা হয় তাকে পরীক্ষাগার বা গবেষণাগার (Laboratory) বলে।
রসায়ন গবেষণাগার (CHEMISTRY LABORATORY)কাকে বলে? রসায়ন গবেষণাগার কী ?
রসায়ন গবেষণাগার(CHEMISTRY LABORATORY):যেখানে রসায়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা করা হয় তাকে রসায়ন পরীক্ষাগার বা রসায়ন গবেষণাগার (Chemistry Laboratory) বলে।
রসায়ন পরীক্ষাগারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে কেন?
রসায়ন পরীক্ষাগারে আমরা কীভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারি?
GLOBALLY HARMONIZED SYSTEM বা G.H.S কী?
GLOBALLY HARMONIZED SYSTEM বা G.H.S:যেকোনাে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের আগেই আমাদের সেই রাসায়নিক দ্রব্যটির প্রকৃতি অর্থাৎ সেটি কি বিস্ফোরক অথবা দাহ্য নাকি তেজস্ক্রিয় তা জেনে নিতে হবে। সেটি বােঝানাের জন্য রাসায়নিক পদার্থের বােতল বা কৌটার লেবেলে এক ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি সর্বজনীন নিয়ম (Globally Harmonized system) চালু আছে । এই নিয়মকে Globally Harmonized system বলে।
পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বােঝনাের জন্য সর্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা বােঝনাের জন্য সর্বজনীন সাংকেতিক চিহ্ন:সাংকেতিক চিহ্ন ও সাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের ঝুঁকি ও তার মাত্রা, সাবধানতা উদাহরণসহ সংক্রান্ত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করো।
| সাংকেতিক চিহ্ন | পদার্থের ঝুঁকি এবং ঝুঁকির মাত্রা | সাবধানতা | উদাহরণ |
| যে সকল পদার্থ অস্থিতিশীল এবং নিজে নিজেই বিক্রিয়া করতে পারে তাদেরকে বিস্ফোরক পদার্থ বলে।
বিস্ফোরক পদার্থ চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থ থেকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আঘাত লাগলে বা আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব রাসায়নিক উপাদান চাপ, তাপ ,ঘর্ষণ ও আঘাতের ফলে বিস্ফোরিত হয়ে থাকে। | এ দ্রব্যগুলাে খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে।
এই পদার্থগুলোকে খুব সাবধানে নিরাপদ স্থানে ল্যাবরেটরি একপাশে সংরক্ষণ করা উচিত। ঘর্ষণ হতে পারে এমন অবস্থা এড়িয়ে রাখা, অন্য পদার্থের সাথে মিশ্রণের সময় অতি ধীরে যুক্ত করা, তাপ ও আগুন থেকে দূরে রাখা উচিত। | টিএনটি(ট্রাই নাইট্রো টলুইন),জৈবপার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। |
দাহ্য পদার্থ(Flammable substance) | যে সকল পদার্থে খুব সহজেই আগুন ধরে যায় এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, তাদেরকে দাহ্য পদার্থ বলে। দাহ্য পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। এসব পদার্থ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় হতে পারে । এরা বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে। | এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। ঘর্ষণ হতে পারে এমন অবস্থা এড়িয়ে রাখতে হবে। | অ্যালকোহল,ইথার ইত্যাদি।
এছাড়াও অ্যারোসল, পেট্রোলিয়াম, টলুইন ইত্যাদি। |
বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance) | বিষাক্ত পদার্থ চিহ্নধারী পদার্থ বিষাক্ত প্রকৃতির। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। | এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। | বেনজিন, ক্লোরােবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। |
উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance) | উত্তেজক পদার্থ ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। | উত্তেজক পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক এগুলাে ব্যবহার করতে হবে। | সিমেন্ট ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ |
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance) | স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলাে শরীরের মধ্যে গেলে ক্যানসারের মতাে কঠিন রােগ হতে পারে কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করতে পারে। | এই পদার্থগুলােকে সতর্কভাবে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রােন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক এগুলাে পরে নিতে হবে। | বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি। |
তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance) | তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতাে মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। | তাই এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়ােজন। | ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। |
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment) | পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর চিহ্নধারী পদার্থগুলাে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। | এগুলােকে ব্যবহারের সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়ােজন। আবার, ব্যবহারের পরে যেখানে-সেখানে না ফেলে তা একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। এসব পদার্থকে যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এগুলাে সহজে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। | লেড, মার্কারি ইত্যাদি৷ |
ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive) | ক্ষত সৃষ্টিকারী চিহ্নধারী পদার্থ শরীরে লাগলে শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে তা শরীরের ভেতরের অঙ্গেরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। | এসব পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। | হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সােডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ। |
সাংকেতিক চিহ্ন ও সাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের উদাহরণ ।
| সাংকেতিক চিহ্ন | সাংকেতিক চিহ্নবিশিষ্ট পদার্থের উদাহরণ |
বিস্ফোরক পদার্থ (Explosive substance) | টিএনটি(ট্রাই নাইট্রো টলুইন),জৈব পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। |
দাহ্য পদার্থ(Flammable substance) | অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। |
বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance) | বেনজিন, ক্লোরােবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। |
উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance) | সিমেন্ট ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ |
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance) | এ ধরনের পদার্থের উদাহরণ হলাে বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি। |
তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance) | যেমন- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। |
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment) | এ ধরনের পদার্থের উদাহরণ হলাে লেড, মার্কারি ইত্যাদি৷ |
ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive) | হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সােডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ। |