যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনাে পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
যেমন-নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি।
কৃত্রিম মৌল কাকে বলে?
যেসকল মৌলকে গবেষণাগারে তৈরি করা হয় তাদেরকে কৃত্রিম মৌল বলে। কৃত্রিম মৌলের সংখ্যা ২০ টি।
এ পর্যন্ত মোট কতটি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে ?
এ পর্যন্ত 118টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলাের মধ্যে 98টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বাকি মৌলগুলাে গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে।
যৌগিক পদার্থ কাকে বলে ?
যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক ভিন্ন ভিন্ন মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন-পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়।
চককে যৌগিক পদার্থ বলা হয় কেন?
যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক ভিন্ন ভিন্ন মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে। চককে(CaCO3) ভাঙলে( অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ) ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। সুতরাং চককে যৌগিক পদার্থ বলা হয় । অর্থাৎ চক একটি যৌগিক পদার্থ ।
যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত কেমন থাকে ?
যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। যেমন-যে কোনো উৎস থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হােক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে পানিতে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2:1
মৌলসমূহের ধর্ম থেকে যৌগের ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা-ব্যাখ্যা করো।
মৌলসমূহের ধর্ম থেকে যৌগের ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা । যেমন— হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মৌলিক পদার্থ । সাধারণ তাপমাত্রায় এরা উভয়ই গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল।
H2 (g) + O2 (g) = 2H2O(l)
পরমাণু কাকে বলে?
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে তাকে পরমাণু বলে ।
(কোন মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ যার মধ্যে ঐ মৌলের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন থাকে, যা স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না কিন্তু রাসায়নিক বিক্রায়ায় অংশগ্রহন করতে পারে তাকে ঐ মৌলের পরমানু বলে।) যেমন- N, O ইত্যাদি । নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান।
অণু কাকে বলে?
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে । যেমন-দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে । আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।
মৌলের অণু কাকে বলে?
একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন-দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে ।
যৌগের অণু কাকে বলে?
ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়ে যে অণু গঠন করে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন- একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।
পরমাণু ও অণু এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
পরমাণু
অণু
১. মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ।
১. মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কোনো কোনো মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন—হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
২. অণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে ।
৩. অণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পূর্বে অণু পরমাণুতে বিশ্লিষ্ট হয়।
৪. বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর সংখ্যা সীমিত। এ পর্যন্ত ১১৮ প্রকারের পরমাণু আবিষ্কৃত হয়েছে।
৪. পৃথিবীতে যৌগিক পদার্থের সংখ্যা অসংখ্য বলে অণুর সংখ্যাও অসংখ্য।
৫. পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর অস্তিত্ব থাকে না।
৫. অণুকে ভাঙলে একই বা ভিন্ন মৌলের পরমাণু পাওয়া যায় ।
মৌলের প্রতীক কাকে বলে? রাসায়নিক প্রতীক বলতে কী বোঝ?
মৌলের প্রতীক বা রাসায়নিক প্রতীক বা প্রতীক: কোনাে মৌলের ইংরেজি বা ল্যাটিন পূর্ণনামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে। যেমন – হাইড্রোজেন এর প্রতীক H, অক্সিজেন এর প্রতীক O, নাইট্রোজেন এর প্রতীক N ইত্যাদি ।
মৌলের প্রতীক লেখার নিয়মাবলী বর্ণনা করো।
প্রত্যেকটি মৌলকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে তাদের আলাদা আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। মৌলের প্রতীক লিখতে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। নিয়মগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো ।
(a) মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে প্রতীক লেখা হয় এবং তা ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেমন-
মৌল
ইংরেজি নাম
প্রতীক
হাইড্রোজেন
Hydrogen
H
অক্সিজেন
Oxygen
O
নাইট্রোজেন
Nitrogen
N
(b) যদি দুই বা দুইয়ের অধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হয় তবে একটি মৌলকে নামের প্রথম অক্ষর (ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। অন্যগুলাের ক্ষেত্রে প্রতীকটি দুই অক্ষরে লেখা হয়। এক্ষেত্রে নামের প্রথম অক্ষরটি ইংরেজি বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর এবং নামের অন্য একটি অক্ষর ছােট হাতের অক্ষর দিয়ে লেখা হয়। যেমন-
মৌল
ইংরেজি নাম
প্রতীক
কার্বন
Carbon
C
ক্লোরিন
Chlorine
Cl
ক্যালসিয়াম
Calcium
Ca
কোবাল্ট
Cobalt
Co
ক্যাডমিয়াম
Cadmium
Cd
ক্রোমিয়াম
Chromium
Cr
(c) কিছু মৌলের প্রতীক তাদের ল্যাটিন নাম থেকে নেওয়া হয় ।যেমন-
মৌল
ল্যাটিন নাম
প্রতীক
সােডিয়াম
Natrium
Na
কপার
Cuprum
Cu
পটাশিয়াম
Kalium
K
সিলভার
Argentum
Ag
টিন
Stannum
Sn
এন্টিমনি
stibium
Sb
গোল্ড
Aurum
Au
লেড
Plumbum
Pb
টাংস্টেন
Wolfram
W
আয়রন
Ferrum
Fe
মারকারি
Hydrurgyrum
Hg
সংকেত কাকে বলে?
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণু প্রতীকের সাহায্যে যেভাবে প্রকাশ করা হয় তাকে সংকেত বা আণবিক সংকেত বলে। অর্থাৎ মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুর সংক্ষিপ্ত রূপকে সংকেত বা আণবিক সংকেত বলে। যেমন- নাইট্রোজেনের সংকেত N2 , পানির সংকেত H2O ।
মূল কণিকা বা মৌলিক কণিকা বলতে কী বোঝো ?
যে সকল অতি সূক্ষকণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত হয় তাদেরকে মূল কণিকা বা মৌলিক কণিকা বলে ।
পরমাণু প্রধান তিনটি কণিকার বর্ণনা করো।
পরমাণু প্রধান তিনটি কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রােটন এবং নিউট্রন।
ইলেকট্রন: ইলেকট্রন হলাে পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক বা নেগেটিভ। এ আধানের পরিমাণ -1.60 x 10-19 কুলম্ব। একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11 x 10-28 g। ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রােটন ও নিউট্রনের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই আপেক্ষিক ভর শূন্য ধরা হয়। 1897 খ্রিষ্টাব্দে স্যার জে. জে. থমসন সর্বপ্রথম ইলেকট্রনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
প্রােটন: প্রােটন হলাে পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার চার্জ বা আধান ধনাত্মক বা পজেটিভ। এ আধানের পরিমাণ +1.60 x 10-19 কুলম্ব। একে p প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একটি প্রােটনের ভর 1.673×10-24 g ৷ প্রােটনের আপেক্ষিক আধান +1 এবং আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়।1911 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটনের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
নিউট্রন: নিউট্রন হলাে পরমাণুর আরেকটি মূল কণিকা যার কোনাে আধান বা চার্জ নেই। হাইড্রোজেন ছাড়া সকল মৌলের পরমাণুতেই নিউট্রন রয়েছে। একে n প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একটি নিউট্রনের ভর 1.675×10-24 g যা প্রােটনের ভরের চেয়ে সামান্য বেশি। নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান ০ আর আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 1932 সালে জেমস স্যাডউইক নিউট্রন আবিস্কার করেন।
*একটি পাথরের আসল ভর ৪০ কেজি এবং অন্য একটির ৮০ কেজি। প্রথম ভরকে প্রমাণ (standard) ভর ধরলে দ্বিতীয় পাথরের তুলনামূলক বা আপেক্ষিক ভর 2 হয়। আপেক্ষিক মানের কোনাে একক থাকে না। কারণ ভাগ করার সময় উপর ও নিচের একক কাটা যায়। ভাগফল হয় শুধু একটি সংখ্যা।
* আমরা জানি , পরমাণু অতিশয় ক্ষুদ্র। নিউক্লিয়াস পরমাণুর তুলনায় আরাে অনেক ক্ষুদ্র। একটি পরমাণুর ব্যাস 10-8 cm এবং একটি নিউক্লিয়াসের ব্যাস 10-15 m অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ পরমাণুর ব্যাসার্ধের এক লক্ষ ভাগ ছােট।
মূলকণিকারনাম
প্রতীক
প্রকৃতআধানবাচার্জ
প্রকৃতভর
আপেক্ষিকআধান
আপেক্ষিকভর
অবস্থান
আবিস্কারক
আবিস্কারেরসাল
ইলেকট্রন
e
-1.60×10-19কুলম্ব
9.110×10-28 g
-1
0
কক্ষপথ
জে.জে. থমসন
1897
প্রোটন
p
+1.60×10-19কুলম্ব।
1.673×10-24 g
+1
1
নিউক্লিয়াস
রাদারফোর্ড
1911
নিউট্রন
n
0
1.675×10-24 g
0
1
নিউক্লিয়াস
চ্যাডউইক
1932
পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে? ব্যাখ্যা করো।
কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রােটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।প্রােটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে Z দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেমন- হিলিয়াম (He) এর একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে দুটি প্রােটন থাকে। তাই হিলিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হলাে ২ । আবার, অক্সিজেন (O) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আটটি প্রােটন থাকে। তাই অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা হলাে ৮ ।
পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ কেন?
ইলেকট্রন, প্রােটন ও নিউট্রন হচ্ছে পরমাণুর তিনটি স্থায়ী মৌলিক কণিকা। পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসে প্রােটন ও নিউট্রন থাকে। প্রােটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত কিন্তু নিউট্রন চার্জ নিরপেক্ষ। অপরদিকে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। নিউক্লিয়াসে যতটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রােটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঠিক ততটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে । যেহেতু প্রােটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমান ও বিপরীত চিহ্নের, তাই পরমাণুর প্রােটন ও ইলেকট্রনের চার্জ অর্থাৎ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ পরস্পর প্রশমিত করে। ফলে সামগ্রিকভাবে পরমাণু চার্জ শূন্য বা চার্জ নিরপেক্ষ হয় ।
পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেক্ট্রন সমান -কীভাবে প্রমাণ করবে ?
যেহেতু প্রত্যেকটা পরমাণুই চার্জ নিরপেক্ষ অর্থাৎ মােট চার্জ বা আধান শূন্য তাই পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রােটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন থাকে।
ভরসংখ্যা কাকে বলে?
কোনাে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রােটন ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে। যেমন-সোডিয়াম পরমাণুতে ১১ টি প্রোটন এবং ১২ টি নিউট্রন আছে। অতএব সোডিয়ামের ভরসংখ্যা২৩। ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কীভাবে কোনো পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করা হয়?
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়:
আমরা জানি, কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রােটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। অর্থাৎ প্রােটন সংখ্যা= পারমাণবিক সংখ্যা প্রােটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে Z দিয়ে প্রকাশ করা হয়। আবার, কোনাে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রােটন ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে। অর্থাৎ ভরসংখ্যা = প্রােটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা । ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল । সুতরাং ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বিয়ােগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা- প্রােটন সংখ্যা অথবা A – Z যেমন-সােডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলাে 23, এর প্রােটন সংখ্যা 11 । সুতরাং সােডিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা- প্রােটন সংখ্যা বা, সােডিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা =23 -11 = 12
কোনো পরমাণুতে পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা কীভাবে লেখা হয়?
কোনাে পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়। যেমন- সােডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23। এটাকে নিম্নরূপে প্রকাশ করা যায়:
নিউক্লিয়ন সংখ্যা কী? ভরসংখ্যা কাকে বলে? পরমাণুর ভরসংখ্যা কাকে বলে?
মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফলকে ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলা হয়। ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
নিচের পরমাণু দুইটির ভর সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন-ব্যাখ্যা কর।
6429A এবং6430B
কোনাে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান নিউট্রন ও প্রােটন সংখ্যার যােগফলকে ঐ পরমাণুর নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা ভর সংখ্যা বলে। নিউক্লিয়ন সংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বিয়ােগ করলে ঐ পরমাণুর নিউট্রনের সংখ্যা নির্ণয় করা যায়। 6429A পরমাণুর নিউক্লিয়ন সংখ্যা = 64 এবং প্রােটন সংখ্যা = 29
অতএব, A এর নিউট্রন সংখ্যা = 64 – 29 = 35
আবার , 6430 B পরমাণুর নিউক্লিয়ন সংখ্যা = 64
B এর প্রােটন সংখ্যা = 30
. : B এর নিউট্রন সংখ্যা = 64 – 30 = 34
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, A এবং B পরমাণু দুটির নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রােটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।
নিচের পরমাণু দু’টির ভর সংখ্যার ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা দাও।
11H, 21H
আমরা জানি, যে সকল পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসােটোপ বলে। প্রদত্ত পরমাণু দুটি 11H এবং 21H হলাে পরস্পরের আইসােটোপ। কারণ 11H এবং 21H উভয়টিতে প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন। উভয় মৌলতে একটি করে প্রােটন বিদ্যমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন । দ্বিতীয়টিতে অর্থাৎ 21H এ একটি নিউট্রন রয়েছে, প্রথমটিতে কোনাে নিউট্রন নেই কিন্তু দ্বিতীয়টিতে অর্থাৎ 21H এ 1টি নিউট্রন রয়েছে । তাই এদের একটির ভরসংখ্যা 1 এবং অপরটির ভরসংখ্যা 2 ।
নিচের পরমাণুটির মধ্যে 2 টি ইলেকট্রন ও 2টি নিউট্রন যুক্ত হলে কী পরিবর্তন ঘটবে?
168O
168O পরমাণুটির মধ্যে 2 টি ইলেকট্রন যুক্ত হলে ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হয় অর্থাৎ 168O2- আয়নে পরিণত হয়। আবার 168O পরমাণুটির মধ্যে 2টি নিউট্রন যুক্ত হলে এর ভরসংখ্যা আগের তুলনায় 2 বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ পরমাণুটি 168O থেকে 188Oঅবস্থা প্রাপ্ত হয়।
নিচের পটাসিয়াম আয়নটির তাৎপর্য লিখ।
3919K+
নিচে 3919K+ এর তাৎপর্য উল্লেখ করা হলো:
মৌলের প্রতীক হলাে =K মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা হলাে (Z) = 19 মৌলটির ইলেক্ট্রন সংখ্যা (Z) = 19 – 1= 18 পরমাণুটির ভরসংখ্যা হলাে (A) = 39 মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা (A-Z) = 39-19 =20 আধানের পরিমাণ হচ্ছে = 1+
নিচের অক্সাইড আয়ন দ্বারা কী বুঝায়? ব্যাখ্যা করাে।
168 ০2-
নিচে 168 ০2-এর তাৎপর্য উল্লেখ করা হলো:
মৌলের প্রতীক হলাে =O মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা হলাে (Z) = 8 মৌলটির ইলেক্ট্রন সংখ্যা (Z) = 8 + 2= 10 পরমাণুটির ভরসংখ্যা হলাে (A) = 16 মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা (A-Z) = 16-8 =8
আধানের পরিমাণ হচ্ছে = 2–
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা পার্থক্য নির্ণয় করো।
পারমাণবিক সংখ্যা
ভরসংখ্যা
কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটন সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।
কোন পরমাণু নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রােটন ও নিউট্রনের মােট সংখ্যাকে ভর সংখ্যা বলা হয় ।
পারমাণবিক সংখ্যাকে ‘Z’ দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।
ভরসংখ্যাকে ‘’A’’ দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।
ভর সংখ্যা হতে নিউট্রন সংখ্যা বিয়োগ করলে পারমাণবিক সংখ্যা পাওয়া যায় ।
ভর সংখ্যা হতে পারমাণবিক সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায় ।
নিচের প্রতীক দ্বারা কী কী বোঝানাে হয়েছে? প্রতীকটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
এখানে X দ্বারা কোন একটি মৌলের প্রতীক বােঝানাে হয়েছে। A দ্বারা বােঝানাে হয়েছে মৌলটির ভর সংখ্যা । Z দ্বারা মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রােটন সংখ্যা বােঝানাে হয়েছে । +– m দ্বারা মৌলটি কয়টি ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ করেছে তা বােঝানাে হয়েছে। যদি মৌলটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে তবে (- m) হয়, আর যদি মৌলটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে তবে (+ m) হয়। আর মৌলটি যদি ইলেকট্রন গ্রহণ বা ত্যাগ কিছুই না করলে m = 0 হয়। এখান থেকে মৌলের নিউট্রন সংখ্যা(A-Z) , মৌলের ভর সংখ্যা (A), মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ইত্যাদি বের করা যায়। এখানে X = মৌলের প্রতীক। Z= মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদবিন্দুতে বসে। A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষবিন্দুতে বসে। এটি প্রােটন ও নিউট্রনের মােট সংখ্যা। একে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। +– m= আধানের পরিমাণ। এটি প্রতীকের ডান পার্শ্বে শীর্ষবিন্দুতে বসে। সংখ্যা লিখে তারপর চিহ্ন দিতে হয়।
নিম্নলিখিত মৌলগুলাের পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা, ইলেক্ট্রন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা বের করো ।
2814si, 3115p , 178o, 3919k, 4020Ca++
মৌল/আয়নসমূহ
পারমাণবিক সংখ্যা (z)
ভর সংখ্যা(A)
ইলেকট্রন সংখ্যা(z) সংখ্যা
নিউট্রনসংখ্যাA-Z
2814 si, 3115p, 178 o, 3919k 4020Ca++
14 15 8 19 20
28 31 17 39 40
14 15 8 19 20-2=18
14 16 9 20 40-20=20
পরমাণু মডেল কী ? পরমাণু মডেল কাকে বলে ?
পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করার জন্য বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময় যে মতামত প্রদান করেন সেগুলোকে পরমাণু মডেল বলে । যেমন, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বাের পরমাণু মডেল ইত্যাদি।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কী?
1911 খ্রিষ্টাব্দে আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষার সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ প্রদান করেন তাকে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল (সৌর মডেল) বলে ।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলটি বর্ণনা দাও।
1911 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। মডেলটি নিম্নরূপ :
(a) পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রােটন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে। যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রােটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
(b) নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা।
(c) সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে যেমন গ্রহগুলাে ঘুরে তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলাে ঘুরছে। কোনাে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রােটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে সেই কয়টি ইলেকট্রন থাকে। যেহেতু প্রােটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমান ও বিপরীত চিহ্নের, তাই পরমাণুর সামগ্রিকভাবে চার্জ শূন্য।
চিত্র: রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল।
(d) ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে। এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো।
রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। তিনিই সর্বপ্রথম একটি গ্রহণযােগ্য পরমাণু মডেল প্রদান করলেও তার পরমাণু মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। সেগুলাে হলাে:
(a) এই মডেল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার (ব্যাসার্ধ) ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনাে ধারণা দিতে পারেনি।
(b) সৌরজগতের সূর্য ও গ্রহগুলাের সামগ্রিকভাবে কোনাে আধান বা চার্জ নেই কিন্তু পরমাণুতে ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াসের আধান বা চার্জ আছে। কাজেই চার্জহীন সূর্য এবং গ্রহগুলাের সাথে চাৰ্যযুক্ত নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের তুলনা করা হয়েছে। কাজেই চার্জহীন বস্তুর সাথে চার্জযুক্ত বস্তুর তুলনা সঠিক নয়।
(c) একের অধিক ইলেকট্রনবিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলাে কীভাবে নিউক্লিয়াসের চারদিকে পরিভ্রমণ করছে তার কোনাে ধারণা এ মডেলে দেওয়া হয়নি।
(d) ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময় ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। ফলে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথও ছােট হতে থাকবে এবং এক সময় সেটি নিউক্লিয়াসের উপর পতিত হবে। অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে বা পরমাণু স্থায়ী হবে না। কিন্তু প্রকৃতিতে সেটা ঘটে না অর্থাৎ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক নয়।
চিত্র :ইলেকট্রন শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পতিত হচ্ছে।
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে কেন সৌর মডেল বলা হয়?
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে।
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে নিউক্লিয়ার মডেল বলা হয় কেন ?
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেল বলা হয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন কেন্দ্রে পতিত হয় না কেন? ব্যাখ্যা করাে।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন কেন্দ্র পতিত হয় না। কারণ ধনাত্মক চার্জযুক্ত নিউক্লিয়াস ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনসমূহের পারস্পরিক স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষনজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্র বহির্মুখী বল পরস্পর সমান এবং বিপরীতমুখী ।
ম্যাক্সওয়েল তত্ত্ব কী?জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
কোনাে চার্জযুক্ত বস্তু বা কণা কোনাে বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকলে তা ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ করবে এবং তার আবর্তনচক্রও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। এটিকে ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব বলে।
ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক কী না ? ব্যাখ্যা করো। ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করাে। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল গ্রহণযােগ্যতা পায়নি কেন?
ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময় ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। ফলে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথও ছােট হতে থাকবে এবং এক সময় সেটি নিউক্লিয়াসের উপর পতিত হবে। অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে বা পরমাণু স্থায়ী হবে না। কিন্তু প্রকৃতিতে সেটা ঘটে না অর্থাৎ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক নয়। অর্থাৎ রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল গ্রহণযােগ্যতা পায়নি ।
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল কেন পারমাণবিক বর্ণালীর ব্যাখ্যা করতে পারে না? ব্যাখ্যা করাে।
বোর পরমাণু মডেল অনুসারে যখন কোনাে ইলেকট্রন একটি নিম্নতর কক্ষপথ থেকে উচ্চতর কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শােষণ করে। আবার যখন কোনাে উচ্চতর শক্তিস্তর হতে নিম্নতর কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয় তখন শক্তি বিকিরণ করে । বিকিরিত ও শােষিত শক্তিকে বর্ণালি হিসেবে পাওয়া যায় । কিন্তু রাদারফোর্ড মডেল অনুসারে, ইলেকট্রনের শক্তি বিকিরণ বা শােষণ ঘটে না । এই কারণে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পারমাণবিক বর্ণালির ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
বাের মডেলের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকার্যগুলাে উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করাে।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ত্রুটিগুলােকে সংশােধন করে 1913 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী নীলস্ বাের পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন। এই মডেলকে বােরের পরমাণু মডেল বলা হয়। বাের পরমাণু মডেলের মতবাদগুলাে নিম্নরূপ –
(a) পরমাণুতে যে সকল ইলেকট্রন থাকে সেগুলাে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ইচ্ছামতাে যেকোনাে কক্ষপথে ঘুরতে পারে না। শুধু নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের কতগুলাে অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে। এই নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথগুলােকে অনুমােদিত কক্ষপথ বা প্রধান শক্তিস্তর বা কক্ষপথ বা শেল বা অরবিট বা স্থির কক্ষপথ বলে। স্থির কক্ষপথে ঘুরার সময় ইলেকট্রনগুলাে কোনােরূপ শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। স্থির কক্ষপথকে n দ্বারা প্রকাশ করা হয়। n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। অন্যভাবে বলা যায়, n = 1 হলে K প্রধান শক্তিস্তর, n = 2 হলে L প্রধান শক্তিস্তর, n = 3 হলে M প্রধান শক্তিস্তর, n = 4 হলে N প্রধান শক্তিস্তর ইত্যাদি।
(b) বাের মডেল অনুসারে কোন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের কৌণিক ভরবেগ
m হচ্ছে ইলেকট্রনের ভর (9.11 x 10-31 kg)
r হচ্ছে ইলেকট্রন যে কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে ঘুরবে তার ব্যাসার্ধ
v হচ্ছে ইলেকট্রন যে কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে ঘুরবে সেই কক্ষপথে ইলেকট্রনের বেগ
h হচ্ছে প্লাংক ধ্রুবক (h = 6.626 x 10-34 m2 kg/s)
n হচ্ছে প্রধান শক্তিস্তর বা প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n = 1, 2, 3 ….. ইত্যাদি।)
এখানে যে শক্তিস্তরের n এর মান কম সেই শক্তিস্তর নিম্ন শক্তিস্তর এবং যে শক্তিস্তরের n এর মান বেশি সেই শক্তিস্তর উচ্চ শক্তিস্তর হিসেবে পরিচিত।
চিত্র: বােরের পরমাণু মডেল।
(c) কোনাে প্রধান শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ঘুরার সময় ইলেকট্রনের কোনাে শক্তি শােষিত বা বিকিরিত হয় না, তবে ইলেকট্রন যদি নিম্ন শক্তিস্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তর এ যায় তখন শক্তি শােষিত হয়। আবার, যদি ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তর এ যায় তখন শক্তি বিকিরিত হয়।
এই শােষিত বা বিকিরিত শক্তির পরিমাণ
c হচ্ছে আলোর বেগ (3 x 108 ms-1)
v হচ্ছে শােষিত বা বিকিরিত শক্তির কম্পাঙ্ক (একক s-1 বা Hz)
λ হচ্ছে শােষিত বা বিকিরিত শক্তির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (একক m)
ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে যাবার সময় যে আলাে বিকিরণ করে তাকে প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করালে পারমাণবিক বর্ণালি (atomic spectra) সৃষ্টি হয়।
বােরের পরমাণু মডেলের সাফল্য বর্ণনা করো।
(a) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল অনুসারে সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহ-উপগ্রহগুলাে যেমন ঘুরছে, পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলােও তেমন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এখানে ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের আকার সম্পর্কে কোনাে কথা বলা হয়নি কিন্তু বােরের পারমাণবিক মডেলে পরমাণুর শক্তিস্তরের আকার বৃত্তাকার বলা হয়েছে।
(b) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পরমাণু শক্তি শােষণ করলে বা শক্তি বিকিরণ করলে পরমাণুর গঠনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে সে কথা বলা হয়নি কিন্তু বাের পরমাণু মডেলে বলা হয়েছে পরমাণু শক্তি শোষণ করলে ইলেকট্রন নিম্ন শক্তিস্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে ওঠে। আবার, পরমাণু শক্তি বিকিরণ করলে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে নেমে আসে।
(c) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল অনুসারে কোনাে মৌলের পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় না কিন্তু বােরের পরমাণু মডেল অনুসারে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু হাইড্রোজেন (H) এর বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায়।
বােরের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো।
বাের মডেলেরও কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। সেগুলাে হচ্ছে:
(a) বাের মডেলের সাহায্যে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় সত্যি কিন্তু একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় না।
(b) বােরের পারমাণবিক মডেল অনুসারে এক শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রন অন্য শক্তিস্তরে গমন করলে পারমাণবিক বর্ণালিতে একটিমাত্র রেখা পাবার কথা। কিন্তু শক্তিশালী যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায় প্রতিটি রেখা অনেকগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেখার সমষ্টি। প্রতিটি রেখা কেন অনেকগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেখার সমষ্টি হয় বাের মতবাদ অনুসারে তার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।
(c) বােরের পরমাণুর মডেল অনুসারে পরমাণুতে শুধু বৃত্তাকার কক্ষপথ বিদ্যমান। কিন্তু পরে প্রমাণিত হয়েছে পরমাণুতে ইলেকট্রন শুধু বৃত্তাকার কক্ষপথেই নয় উপবৃত্তাকার কক্ষপথেও ঘুরে।
পরমাণুতে কীভাবে বর্ণালী সৃষ্টি হয়? পরমাণুতে কখন বর্ণালীর সৃষ্টি হয়-ব্যাখ্যা কর।
বর্ণালি হলাে বিভিন্ন বর্ণের আলাের সমাবেশ। কোনাে পরমাণুর উপর অতিবেগুনি, দৃশ্যমান এবং অবলােহিত অঞ্চলের শক্তি আপতিত হলে উক্ত পরমাণুর যােজনীস্তরের ইলেকট্রন নিম্ন শক্তিস্তর হতে উচ্চ শক্তিস্তরে গমন করে। ইলেকট্রন যদি নিম্ন শক্তিস্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তর এ যায় তখন শক্তি শােষিত হয়। আবার, যদি ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তর এ যায় তখন শক্তি বিকিরিত হয়। ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে যাবার সময় যে আলাে বিকিরণ করে তাকে প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করালে পারমাণবিক বর্ণালি (atomic spectra) সৃষ্টি হয়।
পারমাণবিক বর্ণালি
বর্ণালী কী?
ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের একাধিক বর্ণের আলােক রশির সমাহারই বর্ণালী।
বোরের পরমাণু মডেল সম্পর্কিত গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান
১. একটি পরমাণুর ৩য় কক্ষপথে ঘুর্ণয়নমান ইলেক্ট্রনের গতিবেগ 4.09×105 ms– হলে ঐ কক্ষপথের ব্যাসার্ধ নির্ণয় করো ।
২. একটি পরমাণুর ৩য় কক্ষপথের ব্যাসার্ধ 8.5×10-10 m হলে ঐ কক্ষপথে ঘুর্ণয়নমান ইলেক্ট্রনের গতিবেগ নির্ণয় করো ।
৩. একটি পরমাণুর সর্বশেষ ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ 2.11×10-34 m2kg/s হলে ইলেক্ট্রনটি কত নম্বর কক্ষপথে অবস্থিত?
৪. ২য় শক্তিস্তরে অবস্থিত একটি ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ নির্ণয় করো।
৬. 11 পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট পরমাণুর সর্বশেষ ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ বের করো।
৭. Cl– এর সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ নির্ণয় করো।
৮. Al3+ এর সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ নির্ণয় করো।
৯. O পরমাণুর সর্বশেষ ইলেক্ট্রনের কৌণিক ভরবেগ বের করো।
কোনো পরমাণুর ইলেট্রন L শক্তিস্তর থেকে M শক্তিস্তরে যাওয়ার সময় 500×10-9 m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শক্তি শোষণ করলে শোষিত শক্তির পরিমাণ নির্ণয় করো ।
M শক্তিস্তর থেকে L শক্তিস্তরে নেমে আসতে কোনো ইলেক্ট্রন 486×10-9 m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শক্তি বিকিরণ করলে বিকিরিত শক্তির পরিমাণ নির্ণয় করো ।
কোনো পরমাণুতে ইলেট্রন ২য় কক্ষপথ থেকে 3.976×10-19 J শক্তি শোষণ করে ৩য় কক্ষপথে গমণ করলে শোষিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে কত ?
শক্তিস্তর কী? অনুমােদিত কক্ষপথ কাকে বলে? প্রধান শক্তিস্তর? শেল কী ? অরবিট কাকে বলে ? স্থির কক্ষপথ কাকে বলে?
পরমাণুতে ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের চারিদিকে শুধু নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের কতগুলাে অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে। এই নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথগুলােকে অনুমােদিত কক্ষপথ বা প্রধান শক্তিস্তর বা কক্ষপথ বা শেল বা অরবিট বা স্থির কক্ষপথ বলে। নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবস্থানকালে কোনাে ইলেকট্রন শক্তি শােষণও করেনা, বিকিরণও করেনা।
অথবা
পরমাণুর ইলেকট্রনসমূহ যেসব নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে সেসব কক্ষপথগুলােকে প্রধান শক্তিস্তর বা কক্ষপথ বা শেল বা অরবিট বা স্থির কক্ষপথ বলে।
প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। অতএব এ সূত্রানুসারে:
K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 অতএব
K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = (2 x 12) টি = 2টি
L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 অতএব
L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = (2 x 22) টি = ৪টি
M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 অতএব
M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = (2 x 32) টি = 18টি
N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 অতএব
N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 = (2 x 42) টি = 32টি
টেবিল: মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস [H(1) থেকে Zn(30) পর্যন্ত]
হাইড্রোজেনের (H) পারমাণবিক সংখ্যা 1. ফলে এর ইলেকট্রন সংখ্যাও 1. তাই একটি ইলেকট্রন প্রথম শক্তিস্তর K-তে প্রবেশ করবে।
হিলিয়ামের (He) পারমাণবিক সংখ্যা 2. অতএব ইলেকট্রন দুটি প্রথম শক্তিস্তর K-তে প্রবেশ করবে। লিথিয়ামের (Li) পারমাণবিক সংখ্যা 3. ফলে প্রথম শক্তিস্তর K-তে 2টি ইলেকট্রন প্রবেশ করবে। যেহেতু K প্রধান শক্তিস্তরে দুটির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না তাই এর তৃতীয় ইলেকট্রনটি দ্বিতীয় শক্তিস্তর L তে প্রবেশ করবে।
আবার সােডিয়ামের (Na) এর পারমাণবিক সংখ্যা 11. তাই K শক্তিস্তরে 2টি, L প্রধান শক্তিস্তরে ৪টি বাকি 1 টি ইলেকট্রন M শক্তিস্তরে প্রবেশ করবে।
ইলেকট্রন বিন্যাস ভালােভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় হাইড্রোজেন (H) থেকে আর্গন (Ar) পর্যন্ত উপরে যে নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে সেই নিয়মেই ইলেকট্রন বিন্যাস করা যায় কিন্তু নিয়মটির ব্যতিক্রম ঘটেছে পটাশিয়াম (K) থেকে পরবর্তী মৌলগুলােতে। কেননা, আমরা জানি তৃতীয় শক্তিস্তর (M) এর সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 18টি। কিন্তু পটাশিয়ামের 19তম ইলেকট্রন এবং ক্যালসিয়ামের (ca) 19তম ও 20তম ইলেকট্রন তৃতীয় শক্তিস্তর (M) কে অপূর্ণ রেখে আগেই চতুর্থ (N) শক্তিস্তরে প্রবেশ করে। ক্যানডিয়ামের (Sc) ক্ষেত্রে 19তম ও 20তম ইলেকট্রন চতুর্থ শক্তিস্তরে যাবার পর 21তম ইলেকট্রনটি আবার তৃতীয় শক্তিস্তরে প্রবেশ করেছে। পারমাণবিক সংখ্যা 19 থেকে পরবর্তী মৌলগুলােতে আগে চতুর্থ প্রধান শক্তিস্তরে (N) দুটি ইলেকট্রন পূরণ করে তারপর ইলেকট্রন তৃতীয় প্রধান শক্তিস্তর M এ প্রবেশ করে। এরপরও Cr ও এর ইলেকট্রন বিন্যাসে বিশেষ ব্যতিক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে। এই বিষয়টি বােঝার জন্য আমাদের উপশক্তিস্তরের ধারণাটি থাকতে হবে।
অরবিট কী? প্রধান শক্তিস্তরগুলােকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
পবমাণুতে যে সকল ইলেকট্রন থাকে সেগুলাে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের কতগুলাে অনুমােদিত কক্ষপথে ঘুরে। এই নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের অনুমােদিত বৃত্তাকার কক্ষপথগুলােকে শক্তিস্তর বা অরবিট বলা হয়।
প্রধান শক্তিস্তরগুলােকে যথাক্রমে K, L, M, N ইত্যাদি দ্বারা সূচিত করা হয় ।
পরমাণুতে উপশক্তিস্তরের ধারণা ব্যাখ্যা করো।
আমরা জানি, প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর n দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এই শক্তিস্তরগুলাে আবার উপশক্তিস্তরে বিভক্ত থাকে এবং এই উপশক্তিস্তরকে l দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। l এর মান হয় ০ থেকে n -1 পর্যন্ত। উপশক্তিস্তরগুলােকে অরবিটাল বলা হয়। এই উপশক্তিস্তর বা অরবিটালগুলােকে s, p, d, f ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়। বিভিন্ন উপশক্তিস্তরের জন্য সম্ভাব্য l এর মান নিচে দেখানাে হলাে।
n = 1 হলে 1 = 0 অরবিটাল একটি: 1s
n = 2 হলে 1 = 0, 1 অরবিটাল দুটি: 2s, 2p
n = 3 হলে 1 = 0, 1, 2 অরবিটাল তিনটি: 3s, 3p, 3d
n = 4 হলে 1 = 0, 1, 2, 3 অরবিটাল চারটি: 4s, 4p, 4d, 4f
n = 5 হলে 1 = 0, 1, 2, 3, 4 অর্থাৎ এখানে অরবিটাল থাকবে পাঁচটি কিন্তু 4s, 4p, 4d, 4f এই প্রথম চারটি অরবিটালেই সবগুলাে ইলেকট্রনের বিন্যাস করা সম্ভব বলে পরবর্তী অরবিটালের আর প্রয়ােজন হয় না। n = 6, 7 এবং ৪ এর জন্যও এটি সত্যি।
প্রতিটি অরবিটালে ইলেকট্রন সংখ্যা হচ্ছে: 2(2l + 1), আমরা জানি, প্রতিটি পূর্ণ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা হচ্ছে 2n2 এবং দেখা যায়, সবগুলাে অরবিটালের ইলেকট্রনের সংখ্যা যােগ করে আমরা এই 2n2 পেয়ে যাই। নিচের ছকে সেটি দেখানাে হলাে:
টেবিল: শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস (n = 1 থেকে 4 পর্যন্ত)
অরবিটাল কাকে বলে?
অরবিটালঃ
পরমানুতে নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে যে নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক স্থানে কোনো নির্দিষ্ট শক্তির ইলেকট্রনের অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি থাকে (90% – 95%)তাকে অরবিটাল বলে ।
অথবা
নিউক্লিয়াসের চারদিকে ইলেকট্রনের আবর্তনের সর্বাধিক সম্ভাব্য অঞ্চলকে অরবিটাল বলে। অরবিটালকে উপকক্ষ বা উপশক্তিস্তরও বলা হয় ।
অথবা
নিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট সম্ভাব্য স্থানে ইলেকট্রনের ঘনত্ব সর্বাধিক (90% – 95%)হয় সেই সকল সম্ভাব্য স্থানকে অরবিটাল বলে।
অথবা
নিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক স্থানে কোন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি থাকে (90% – 95%)তাকে অরবিটাল বলে।
অথবা
নিউক্লিয়াসের চারদিকে যেসকল ত্রিমাত্রিক অঞ্চলে ঘূর্ণয়মান ইলেকট্রনের তথা ইলেক্ট্রন মেঘের পওয়ার সম্ভাবনা (90% – 95%) থাকে, ইলেক্ট্রন মেঘের এই ত্রিমাত্রিক অঞ্চলে অরবিটাল বলে।
অথবা
পরমাণুর প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর এক বা একাধিক উপশক্তিস্তর নিয়ে গঠিত। এ উপশক্তিস্তরগুলােকে অরবিটাল বলা হয়। এগুলােকে s,p,d,f ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়।
ইলেকট্রন বিন্যাস কী? ইলেকট্রন বিন্যাস বলতে কী বোঝ? ইলেকট্রন বিন্যাস কাকে বলে।
ইলেকট্রন বিন্যাস:
নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন শক্তিস্তরে শক্তির ক্রমানুসারে ইলেকট্রনগুলাে যেভাবে সাজানাে থাকে তাকে ইলেকট্রন বিন্যাস বলে।
অথবা
কোনো পরমাণুর বিভিন্ন শক্তিস্তরে কয়টি ইলেক্ট্রন কীভাবে আছে তার প্রকাশকে ইলেকট্রন বিন্যাস বলে।
যেমন: হাইড্রোজেনের ইলেক্ট্রন বিন্যাস H(1)→1s1
হিলিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস He(2)→1s2
সোডিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস Na(11)→1s22s2 2p6 3s1
বিভিন্ন শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
আমরা জানি, প্রতিটি শেলে সর্বোচ্চে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতার =2n2 (যেখানে n = 1, 2, 3, 4 …….) অতএব,
K শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2x 12 = 2 টি
L শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2x 22 = 8 টি |
M শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2×32 = 18 টি
N শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2x 42 = 32 টি
বিভিন্ন উপশক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা কত?
আমরা জানি, প্রতিটি উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা : 2(2l + 1) উপস্তরগুলােকে হলো : s, p, d, f ।
s উপশক্তিস্তরে l এর মান =0
p উপশক্তিস্তরে l এর মান =1
d উপশক্তিস্তরে l এর মান =2
f উপশক্তিস্তরে l এর মান =3
s উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×0 + 1)=2 টি।
p উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×1 + 1)=6 টি।
d উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×2 + 1)=10 টি
f উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×3 + 1)=14 টি
Kশেলের বিভিন্ন উপস্তর ও তাদের ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা দেখাও।
K শেল হলাে প্রথম প্রধান শক্তিস্তর অর্থাৎ এখানে n=1. K শেলের উপস্তর 1 টি। যথা: 1s
আমরা জানি, প্রতিটি উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা : 2(2l + 1) | s উপশক্তিস্তরে এর মান =0 অতএব, 1s উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×0 + 1)=2 টি।
Lশেলের বিভিন্ন উপস্তর ও তাদের ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা দেখাও।
Lশেল হলাে দ্বিতীয় প্রধান শক্তিস্তর অর্থাৎ এখানে n=2. L শেলের উপস্তর 2 টি। যথা: 2s, 2p আমরা জানি, প্রতিটি উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা : 2(2l + 1) | s উপশক্তিস্তরে l এর মান =0 এবং p উপশক্তিস্তরে এর মান =1 অতএব, 2s উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×0 + 1)=2 টি। 2p উপস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×1 + 1)=6 টি।
M শেলের বিভিন্ন উপস্তর ও তাদের ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা দেখাও।
M শেল হলাে তৃতীয় প্রধান শক্তিস্তর অর্থাৎ এখানে n=3. M শেলের উপস্তর ৩টি। যথা: 3s, 3p ও 3d. আমরা জানি, প্রতিটি উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা : 2(2l + 1) অতএব, 3s উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×0 + 1)=2 টি। 3p উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা= 2(2l + 1)= 2(2×1 + 1)=6 টি। 3d উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×2 + 1)=10 টি
N শেলের বিভিন্ন উপস্তর ও তাদের ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা দেখাও।
N শেল হলাে চতুর্থ শক্তিস্তর অর্থাৎ এখানে n=4। N শেলের উপস্তর হলাে ৪টি। যথা: 4s, 4p, 4d ও 4f. আমরা জানি, প্রতিটি উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা : 2(2l + 1) অতএব, 4s উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×0 + 1)=2 টি। 4p উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×1 + 1)=6 টি। 4d উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×2 + 1)=10 টি । 4f উপস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2(2l + 1)= 2(2×3 + 1)=14 টি ।
পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি ব্যাখ্যা করো । ইলেকট্রন বিন্যাসের সময় বিভিন্ন অরবিটালে ইলেকট্রন কীভাবে প্রবেশ করে?
পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে। অর্থাৎ যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। অরবিটালের মধ্যে কোনােটির শক্তি কম আর কোনােটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যােগফলের উপর নির্ভর করে। যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে।
3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2 অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5 আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4, l = 0 অতএব n +l এর মান 4 + 0 = 4
কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তি সম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। আবার, দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান যদি সমান হয় তাহলে যে অরবিটালটিতে n এর মান কম সেই অরবিটালে শক্তি কম হবে এবং সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। অপরদিকে, সমান (n + l) এর মানের জন্য যে অরবিটালের n এর মান বেশি, সেই অরবিটালের শক্তিও বেশি, কাজেই সে অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে।
যেমন-3d ও 4p এর n + l এর মান যথাক্রমে 3 + 2 = 5 এবং 4 + l = 5 কিন্তু যেহেতু 3d অরবিটালে n এর মান কম, তাই এ অরবিটালের শক্তি কম এবং এ অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। অপরদিকে 4p অরবিটালে n এর মান বেশি হওয়ায় এর শক্তি 3d এর চেয়ে বেশি। তাই এ অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে।
এ হিসাব অনুযায়ী পরমাণুর অরবিটালের ক্রমবর্ধমান শক্তি হবে এরকম :
নিচের ছকটির সাহায্য আমরা সহজেই উপস্তরগুলাের শক্তির ক্রমগুলাে নির্ণয় করতে পারি।
আমরা জানি, s উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ২টি ইলেকট্রন, p উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ 6টি ইলেকট্রন, d উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ 10টি ইলেকট্রন এবং f উপশক্তিস্তরে সর্বোচ্চ 14টি ইলেকট্রন থাকতে পারে।
চিত্র: ‘অরবিটালের শক্তিক্রম
এই নীতি অনুসারে আমরা নিম্নের মৌলগুলাের ইলেকট্রন বিন্যাস বিশ্লেষণ করতে পারব।
K(19)→ 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 4s1
Ca(20)→ 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 4s2
Sc(21)→ 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d1 4s2
v(22) → 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d2 4s2
যেহেতু 4s অরবিটালের শক্তি 3d অরবিটালের শক্তির চেয়ে কম, তাই পটাশিয়ামের সর্বশেষ 19তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে প্রবেশ না করে 4s অরবিটালে প্রবেশ করে। আবার, ক্যান্ডিয়ামের ক্ষেত্রে 19 ও 20তম ইলেকট্রন অরবিটাল পূর্ণ করে পরবর্তী উচ্চ শক্তি সম্পন্ন অরবিটালে (3d) সর্বশেষ বা 21তম ইলেকট্রন প্রবেশ করে। ইলেকট্রন বিন্যাস সময় একই প্রধান শক্তিস্তরের সকল উপশক্তিস্তর পাশাপাশি লিখবে। যেমন Fe(26) এর জন্য: n = 1 n = 2 n = 3 n = 4
Fe(26)→
1s2
2s2 2p6
3s2 3p6 3d6
4s2
Fe(26)→1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d6 4s2
ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম
সাধারণভাবে দেখা যায় যে, একই উপশক্তিস্তর p ও d এর অরবিটালগুলাে অর্ধেক পূর্ণ (p3, d5) বা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ (p6, d10) হলে সে ইলেকট্রন বিন্যাস সুস্থিত হয়। তাই Cr(24) এর ইলেকট্রন বিন্যাস স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা: Cr(24)→ 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2 কিন্তু 3d অরবিটাল সুস্থিত অর্ধপূর্ণ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় 4s অরবিটাল হতে একটি ইলেকট্রন 3d অরবিটালে আসে। ফলে ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস হয় এরকম:
Cr(24) →1s2 2s2 2p6 3s2 3p63d5 4s1
পটাসিয়ামের 19তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে 4s এ যায় কেন?আমরা জানি, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। অরবিটালের মধ্যে কোনােটির শক্তি কম আর কোনােটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যােগফলের উপর নির্ভর করে। যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। যেমন-
3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2 অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5 আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4, l = 0 অতএব n +l এর মান 4 + 0 = 4 কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তি সম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। পটাসিয়াম ইলেকট্রন বিন্যাস: K(19) =1s2 2s2 2p6 3s2 p36 3d° 4s1 এখানে, পটাসিয়ামের ১৯তম ইলেকট্রনটি 3dতে প্রবেশ না করে 4s এ প্রবেশ করেছে, কারণ 3d উপশক্তিস্তরের শক্তি 4s উপশক্তিস্তরের চেয়ে বেশি। আর ইলেকট্রন প্রথমে কম শক্তিসম্পন্ন উপশক্তিস্তরে প্রবেশ করে। তাই 3d > 4s শক্তিক্রম হওয়ায় 19তম ইলেকট্রনটি 3d অরবিটালে না গিয়ে 4s এ যায়।
ইলেকট্রন বিন্যাসের সময় বিভিন্ন অরবিটালে ইলেকট্রন কীভাবে প্রবেশ করে?
আমরা জানি, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। অরবিটালের মধ্যে কোনােটির শক্তি কম আর কোনােটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যােগফলের উপর নির্ভর করে। যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। যেমন-
3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2 অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5 আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4, l = 0 অতএব n +l এর মান 4 + 0 = 4 কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তি সম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। যেমন-
K (19) — 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d0 4s1
Sc (21) → 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d1 4s2 যেহেতু 4sঅরবিটালের শক্তি 3d অরবিটালের চেয়ে কম, তাই পটাসিয়ামের ১৯ তম ইলেকট্রনটি 3d তে প্রবেশ না করে 4s- এ প্রবেশ করেছে। অনুরূপভাবে Sc এর বেলায় আগে 4s অরবিটাল (উপশক্তিস্তর) – পূর্ণ করে পরে 3d তে প্রবেশ করেছে।
29 Cu এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মে করা যায় না -ব্যাখ্যা কর। কপারের ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যাখ্যা কর। কপার পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে কেন?
আমরা জানি, একই উপশক্তিস্তর p ও d এর অরবিটালগুলাে অর্ধেক পূর্ণ (p3, d5) বা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ (p6, d10) হলে সে ইলেকট্রন বিন্যাস সুস্থিত হয়।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কপার এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ:
29Cu → 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d9 4s 2
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কপার এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ: 29Cu → 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s1 কারণ অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ উপশক্তিস্তর অধিক স্থিতিশীল। d উপশক্তি স্তরে সর্বোচ্চ ইলেকটন ধারণ ক্ষমতা 10 টি কপারের সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের 3d । উপশক্তিস্তরে 9টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। অধিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য 4s থেকে 1টি ইলেকট্রন 3d তা যায় । তাই 29Cu এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মে করা যায় না।
ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যতিক্রম কেন? ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে কেন?
Cr(24) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p63s23p63d54s1 সমশক্তি সম্পন্ন অরবিটালসমূহ অর্ধপূর্ণ বা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ হলে সে ইলেকট্রন বিন্যাস অধিকতর সুস্থিতি লাভ করে। অর্থাৎ np3, np6, nd5, nd10 এবং nf14 সবচেয়ে সুস্থিত হয়। এর ফলে d10s1 এবং d5s1 ইলেকট্রন বিশিষ্ট মৌল অধিকতর স্থায়ী হয়। এজন্য Cr এর সর্বশেষ ইলেকট্রন নিম্ন শক্তিস্তর 4s এ না গিয়ে 3d-তে যায় ।
সাধারণভাবে দেখা যায় যে, একই উপশক্তিস্তর p ও d এর অরবিটালগুলাে অর্ধেক পূর্ণ (p3, d5) বা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ (p6, d10) হলে সে ইলেকট্রন বিন্যাস সুস্থিত হয়। তাই Cr(24) এর ইলেকট্রন বিন্যাস স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা: Cr(24)→ 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2 কিন্তু 3d অরবিটাল সুস্থিত অর্ধপূর্ণ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় 4s অরবিটাল হতে একটি ইলেকট্রন 3d অরবিটালে আসে। ফলে ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস হয় এরকম: Cr(24) →1s2 2s2 2p6 3s2 3p63d5 4s1
ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস । ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম
কিছু মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের সাধারণ নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়।
যে সকল পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসােটোপ বলে। নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতার কারণে আইসােটোপ সৃষ্টি হয়ে থাকে। উদাহরণ:
নাম
প্রতীক
নিউট্রন সংখ্যা
হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম
11H
0
ডিউটেরিয়াম
21H অথবা 21D
1
ট্রিটিয়াম
31H অথবা 31T
2
যে সকল একই মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদের পরস্পরকে আইসােটোপ বলে।
হাইড্রোজেনের স্থায়ী আইসােটোপ কয়টি ও কী কী?
হাইড্রোজেনর স্থায়ী তিনটি আইসােটোপ।
সেগুলাে হলঃ ১. প্রােটিয়াম(11H ) ২. ডিউটেরিয়াম (21H অথবা 21D) ৩. ট্রিটিয়াম (31H অথবা 31T)।
হাইড্রোজেনের সর্বমােট আইসােটোপ সংখ্যা কত? এদের উৎস কি?
হাইড্রোজেনের সর্বমােট ৭টি আইসােটোপ রয়েছে। এদের মধ্যে তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। যথা:১. প্রােটিয়াম(11H ) ২. ডিউটেরিয়াম (21H অথবা 21D) ৩. ট্রিটিয়াম (31H অথবা 31T)।
অবশিষ্ট চারটি গবেষণাগারে সংশ্লেষণ করা হয় ।
নিচে ক্লোরিনের দুটি পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয় কেন?
3517Cl ও 3717Cl পরস্পরের আইসোটোপ।
কারণ আইসোটোপের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি, যে সকল একই মৌলের পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসােটোপ বলে। প্রদত্ত ক্লোরিনের দুটি একই মৌলের পরমাণু আবার এদের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা একই অর্থাৎ 17 কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।
3517Cl এর ভরসংখ্যা = 35এবং নিউট্রন সংখ্যা =35-17=18
3717Cl এর ভরসংখ্যা = 37এবং নিউট্রন সংখ্যা =37-17=20
নিচের হাইড্রোজেন পরমাণু দুটির ভর সংখ্যার ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা করো ।
11H , 21H পরমাণু দুটির ভর সংখ্যার ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো :
আমরা জানি,কোনাে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রােটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলে।
11H পরমাণুর ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসে শুধুমাত্র একটি প্রােটন বিদ্যমান।
এক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা -প্রোটন সংখ্যা
বা, নিউট্রন সংখ্যা =1-1=0
অর্থাৎ কোনো নিউট্রন নেই । তাই এর ভর সংখ্যা। ।
অপরদিকে 21H এর ভর সংখ্যা 2
এক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা -প্রোটন সংখ্যা
বা, নিউট্রন সংখ্যা =2-1=1
অর্থাৎ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একটি প্রােটনের সাথে একটি নিউট্রন বিদ্যমান। তাই এর ভর সংখ্যা 2 |
নিচের পরমাণু দুটিকে পরস্পর আইসােটোপ বলা হয় কেন?
168X , 178X পরমাণু দুটিকে পরস্পর আইসােটোপ বলা হয়। কারণ
আইসোটোপের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি, যে সকল একই মৌলের পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসােটোপ বলে।
প্রদত্ত দুটি একই মৌলের পরমাণু আবার এদের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা একই অর্থাৎ 8 কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।
168X এর ভরসংখ্যা = 16এবং নিউট্রন সংখ্যা =16-8=8
178X এর ভরসংখ্যা = 17এবং নিউট্রন সংখ্যা =17-8=9
আইসােটোপ সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করাে।
যে সব একই মৌলের পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদের পরস্পরকে আইসােটোপ বলে। যেহেতু আইসােটোপগুলাের প্রােটন সংখ্যা সমান তাই নিউট্রন সংখ্যার পার্থক্যের জন্যই ভরসংখ্যা ভিন্ন হয়ে থাকে। অর্থাৎ নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতাই মূলত আইসােটোপ সৃষ্টির কারণ। যেমন: 126C ও 136Cপরস্পরের আইসোটোপ :
এদের প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই বা 6 কিন্তু ভরসংখ্যা যথাক্রমে 12 ও 13 । এর কারণ এদের নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন ।
কিছু কিছু আইসােটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে (নিজে নিজেই) ভেঙে আলফা রশ্মি, বিটা রশ্মি, গামা রশ্মি ইত্যাদি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ বলে।
ইলেকট্রন বিন্যাস (১থেকে ১১৮ টি মৌলের)।ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাসসহ সকল মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস
কোনাে মৌলের একটি পরমাণু, কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 121অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী তাকে ঐ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে।
মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর =
অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16 বলতে কী বুঝায়?
কোনাে মৌলের একটি পরমাণু, কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 1/12অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী তাকে ঐ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে। অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16 বলতে বােঝায় যে, অক্সিজেনের একটি পরমাণু কার্বন-12 আইসােটপের ভরের 1/12অংশের তুলনায় 16 গুণ ভারী।
অণু ও পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বা তুলনামূলক ভর ব্যবহার করা হয় কেন?
সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর ভর 1.67 x 10-24g । প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারী মৌল ইউরেনিয়ামের একটি পরমাণুর ভর 3.95 x 10-22g । পানির একটি অণুর ভর হচ্ছে 2.99 x 10-23g । অণু বা পরমাণুসমূহের এত ক্ষুদ্র ভর মনে রাখা এবং কার্যক্ষেত্র বিভিন্ন হিসাবে ব্যবহার করা অসুবিধাজনক। তাই বিজ্ঞানীরা অণু ও পরমাণুর আপেক্ষিক বা তুলনামূলক ভর ব্যবহার করে থাকেন।
কীসের সাপেক্ষে পরমাণুর ভর মাপা হয়? 1 a.m.u
একটি কার্বন 12 আইসােটোপের ভরের121অংশকে একক হিসেবে ধরে তার সাপেক্ষে পরমাণুর ভর মাপা হয়।
একটি কার্বন 12 আইসােটোপের ভরের121অংশকে 1 a.m.u বলে। 1 a.m.u=1.66Χ1024g বা 1.66Χ1027kg
a.m.u এর পূর্ণরূপ হলো Atomic Mass Unit
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বের করা বা নির্ণয় করার নিয়ম:
কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর জানা থাকলে আমরা নিম্নলিখিতভাবে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বের করতে পারি। এক্ষেত্রে ঐ মৌলের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে একটি কার্বন 12 আইসােটোপের ভরের 121অংশ অথবা 1.66 x 10-24 গ্রাম দ্বারা ভাগ করে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বের করা যায়
যেমন: Al এর 1টি পরমাণুর ভর 4.482 x 10-23 গ্রাম।
কাজেই Al মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর=1.66×10−24গ্রাম4.482×10−23গ্রাম=27
কোনাে মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হলাে দুটি ভরের অনুপাত, সেজন্য আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনাে একক থাকে না।
পরমাণুর ভর ও পারমাণবিক ভরের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
পরমাণুর ভর ও পারমাণবিক ভরের মধ্যে পার্থক্য:
পরমাণুর ভর
পারমাণবিক ভর
পরমাণুর ভর বলতে কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর ভরকে বােঝায়।
পারমাণবিক ভর বলতে যেকোনাে মৌলের একটি পরমাণুর ভর এবং 1 টি কার্বন-12 আইসােটোপের ভরের 121অংশের অনুপাতকে বােঝায়।
একটি পরমাণুর ভর =অ্যাভােগেড্রোসংখ্যা।মৌলেরগ্রামপারমাণবিকভর
যেহেতু কোনাে মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হলাে দুটি ভরের অনুপাত, সেজন্য আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনাে একক থাকে না।
S (সালফার) এর পারমাণবিক ভর 32 এর অর্থ কী? ব্যাখ্যা করো।
S (সালফার) এর পারমাণবিক ভর 32:
কোনাে মৌলের একটি পরমাণু, কার্বন 12 পরমাণুর ভরের 121অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী তাকে ঐ মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে। সালফারের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 32 বলতে বােঝায় যে, সালফারের একটি পরমাণু কার্বন 12 আইসােটপের ভরের 12অংশের তুলনায় 32 গুণ ভারী।
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ব্যাখ্যা করাে।
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের ব্যাখ্যা:
কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর ভর, একটি কার্বন 12 আইসােটোপের পারমাণবিক ভরের121অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী, সেই সংখ্যাকে সংশ্লিষ্ট মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে। অথবা কোনাে মৌলের একটি পরমাণুর ভর ও একটি কার্বন 12 আইসােটোপের পারমাণবিক ভরের121অংশের অনুপাতকে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলে।
যেমন- Na এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 23, এর অর্থ হয় একটি Na পরমাণুর ভর, কার্বন12 আইসােটোপের ভরের 121অংশের তুলনায় 23 গুণ ভারী।
পরমাণুর ভর ও পারমাণবিক ভর ভিন্ন -ব্যাখ্যা করে।
পরমাণুর ভর ও পারমাণবিক ভর ভিন্ন:
কোনো পরমাণুর ভর বলতে 1 টি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে বুঝায়। যেমন: 1 টি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভর 1.673×10-24g। কিন্তু কোনো পরমাণুর পারমাণবিক ভর বলতে ঐ মৌলের একটি পরমাণুর ভর, একটি কার্বন 12 আইসােটোপের পারমাণবিক ভরের121অংশের তুলনায় যতগুণ ভারী, সেই সংখ্যাকে বুঝায়।
পরমাণুর ভরের একক গ্রাম হলেও পারমাণবিক ভর বা আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের কোনো একক নেই ।
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর সংক্রান্ত গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান
গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান(আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর):
1) 17 পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌলের একটি পরমাণুর ভর 5.8863×10-23g হলে এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 35.4595(প্রায় )
2) Cl এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 35.4595 হলে একটি পরমাণুর ভর কত? উঃ 5.8863×10-23 g
3) Na এর একটি পরমাণুর ভর 3.82×10-23 g হলে এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 22.98977 বা 23
4) 23 পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 22.98977 হলে একটি পরমাণুর ভর নির্ণয় করো। উঃ 3.82×10-23 g
5) কোনো মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 39.0983 এবং একটি পরমাণুর ভর 6.49×10-23g একটি কার্বন 12 আইসােটোপের ভরের 121অংশ বা a.m.u এর মান কত? উঃ 1.66×10-24 g
6) K এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 39.0983 হলে এর একটি পরমাণুর ভর নির্ণয় করো। উঃ 6.49×10-23 g
7) 19 প্রোটন বিশিষ্ট মৌলের একটি পরমাণুর ভর 6.49×10-23g এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 39.0983
8) 12 পারমাণবিক ভর বিশিষ্ট মৌলের পারমাণবিক ভর 24.3050 এবং একটি পরমাণুর ভর 4.03463×10-23g হলে পারমাণবিক ভর একক এর মান কত? উঃ 1.66×10-24g
9) কোনো মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 65.409 এবং একটি পরমাণুর ভর 1.0858×10-22 g হলে একটি কার্বন 12 আইসােটোপের একটি পরমাণুর ভর কত? উঃ 1.992×10-23g
10) একটি মৌলের নিউট্রন সংখ্যা 8 এবং প্রোটন সংখ্যা 8 । এর অণুর সঠিক সংকেত S8 এবং একটি অণুর ভর 4.25×10-22g হলে মৌলটির আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 32
11) একটি মৌলের প্রোটন সংখ্যা 8 এবং এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16 | মৌলটির একটি পরমাণুর ভর কত? উঃ 2.6565×10-23g
12) একটি মৌলের প্রোটন সংখ্যা 8 এবং একটি পরমাণুর ভর 2.6565×10-23g | মৌলটির আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 16
13) 40 আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বিশিষ্ট একটি মৌলের একটি পরমাণুর ভর কত? উঃ 6.65×10-23g
14) মৌলটির আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর? উঃ 31
সংকেত
একটি অণুর ভর
P4
2.05877×10-22 g
আইসােটোপের শতকরা হার থেকে কীভাবে মৌলের গড় আপেক্ষিক ভর নির্ণয়?
আইসােটোপের শতকরা হার থেকে মৌলের গড় আপেক্ষিক ভর নির্ণয়ঃ প্রকৃতিতে বেশির ভাগ মৌলেরই একাধিকআইসােটোপরয়েছে। তাই যে মৌলের একাধিক আইসােটোপ আছে সেই মৌলের সকল আইসােটোপের প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা হার থেকে মৌলের গড় আপেক্ষিক ভর এর মান নিচের ধাপগুলাে অনুসরণ করে হিসাব করা হয়।
ধাপ 1: প্রথমে কোনাে মৌলের প্রত্যেকটি আইসােটোপের ভর সংখ্যা এবং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ঐ আইসােটোপের শতকরা পরিমাণ গুণ দিতে হবে।
ধাপ 2: প্রাপ্ত গুণফলগুলােকে যােগ করতে হবে।
ধাপ 3: প্রাপ্ত যােগফলকে 100 দ্বারা ভাগ করলেই ঐ মৌলের গড় আপেক্ষিক ভর পাওয়া যাবে।
ধরা যাক, একটি মৌল A এর দুটি আইসােটোপ আছে। একটি আইসােটোপের ভর সংখ্যা p এবং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ঐ আইসােটোপের শতকরা পরিমাণ m, অপর আইসােটোপের ভর সংখ্যা q এবং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ঐ আইসােটোপের শতকরা পরিমাণ n তাহলে
যেমন: প্রকৃতিতে ক্লোরিনের 2টি আইসােটোপ আছে 35Cl এবং 37Cl
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 35Cl এর শতকরা পরিমাণ 75% এবং
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 37Cl এর শতকরা পরিমাণ 25%
অতএব ক্লোরিনের গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর = 10035×75+37×25= 35.5
উল্লেখ্য যে, পর্যায় সারণিতেও ক্লোরিনের গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 35.5 লেখা আছে। পর্যায় সারণিতে যে পারমাণবিক ভর লেখা আছে তা মূলত গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর।
গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে কীভাবে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আইসোটোপের শতকরা পরিমাণ বের করা যায়?
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আইসোটোপের শতকরা পরিমাণ:
প্রকৃতিতে যদি কোনাে মৌলের দুটি আইসােটোপ থাকে তাহলে সেই মৌলের গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে ঐ মৌলের বিভিন্ন আইসোটোপের প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ বের করা যায়।যেমন:
প্রকৃতিতে কপারের দুটি আইসােটোপ আছে 63Cu এবং 65Cu । কপারের গড় পারমাণবিক আপেক্ষিক ভর 63.5।
ধরা যাক, প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 63Cu এর শতকরা পরিমাণ x% এবং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 65Cu এর শতকরা পরিমাণ (100 -x)%
এখানে, কপারের গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর =100x×63+(100−x)×65
বা, 63.5 =10063x+6500−65x
বা, -2x+6500=100×63.5
বা, -2x=6350-6500
বা, 2x = 150
বা, x =2150=75
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 63Cu এর শতকরা পরিমাণ = 75 % এবং
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 65cu এর শতকরা পরিমাণ (100-75)% = 25%
গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর ও শতকরা পরিমাণ নির্ণয় সম্পর্কিত গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান।
গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর নির্ণয় কর।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আইসোটোপের শতকরা পরিমাণ নির্ণয় ।
1) 10 পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌলের তিনটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা যথাক্রমে 20, 21 ও 22। এদের প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে 90.92%, 0.25% ও 8.82%। মৌলটির গড় পারমাণবিক ভর কত? উঃ 20.18
2) হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ 11H ও 12H এর প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে 99.2%, ও 0.80% হলে মৌলটির গড় পারমাণবিক ভর কত? উঃ 1.008
3) প্রকৃতিতে ক্লোরিনের 2টি আইসােটোপ আছে 35Cl এবং 37Cl । ক্লোরিনের গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর =35.5 । প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ নির্ণয় করো। উঃ 75% এবং 25%
4) প্রকৃতিতে বোরন এর দুটি আইসােটোপ আছে 510B এবং 511B । বোরন এর আইসোটোপসমূহের প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে 20% ও 80% হলে গড় আপেক্ষিক পরমাণবিক ভর নির্ণয় করো। উঃ 10.80
5) প্রকৃতিতে ক্লোরিনের 2 টি আইসোটোপ আছে 35Cl এবং 37Cl । প্রকৃতিতে প্রাপ্ত 37Cl এর শতকরা পরিমাণ 25%হলে ক্লোরিনের গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 35.5
6) অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত? উঃ 16
আইসোটোপ
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শতকরা পরিমাণ
816O
99.76%
817O
0.037%
818O
0.204%
7) S এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 32.08 । মৌলটির দুটি আইসােটোপ 1632S এবং 1634S হলে প্রকৃতিতে প্রাচুর্যতার শতকরা পরিমাণ হিসাব কর । উঃ 96% ও 4%
A নামক একটি মৌলের দুটি আইসােটোপ xAএবং yA এবং এদের প্রকৃতিতে পর্যাপ্ততার শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে c% এবং d% ।মৌলটির আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর কত?
আমরা জানি, কোনাে মৌলের প্রত্যেকটি আইসােটোপের ভর সংখ্যা এবং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ঐ আইসােটোপের শতকরা পরিমাণ গুণ দিয়ে প্রাপ্ত গুণফলগুলােকে যােগ করে 100 দ্বারা ভাগ করলেই ঐ মৌলের গড় আপেক্ষিক ভর পাওয়া যাবে।
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে আপেক্ষিক আণবিক ভর নির্ণয়
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে আপেক্ষিক আণবিক ভর নির্ণয়:
কোনাে মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুতে যে পরমাণুগুলাে থাকে তাদের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নিজ নিজ পরমাণু সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যােগ করলে প্রাপ্ত যােগফলই হলাে ঐ অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর। আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভর এবং আপেক্ষিক আণবিক ভরকে সাধারণভাবে আণবিক ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন-
CO2 এর আপেক্ষিক আণবিক ভর নির্ণয়:
কার্বনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 12 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 16 । যেহেতু CO2 অণুটি একটি কার্বন পরমাণু এবং ২টি অক্সিজেন পরমাণু নিয়ে গঠিত। সুতরাং CO2 এর আপেক্ষিক আণবিক ভর হবে = 12 + (16 x 2) = 44
আপেক্ষিক আণবিক ভরের কোনো একক নেই ।
বেকিং সোডা বা NaHCO3 এর আণবিক ভর নির্ণয় করাে।
বেকিং সােডা: বেকিং সােডা বা খাবার সােডার রাসায়নিক নাম সােডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3)। বেকিং সােডা (NaHCO3) তৈরি করে তার মধ্যে টারটারিক এসিড (C4H6O6) মিশালে বেকিং পাউডার তৈরি হয়। সাধারণত কেক বানানাের কাজে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
বেকিং সোডার সংকেত =NaHCO3
বেকিং সোডা বা NaHCO3 এর আণবিক ভর:
কোনাে মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুতে যে পরমাণুগুলাে থাকে তাদের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নিজ নিজ পরমাণু সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যােগ করলে প্রাপ্ত যােগফলই হলাে ঐ অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর।
বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত হলো NaHCO3
অতএব,
বেকিং সোডা বা NaHCO3 এর একটি অণুতে আছে 1 টি Na পরমাণু , 1 টি H পরমাণু , 1 টি C পরমাণু ও 3টি O পরমাণু ।
আমরা জানি, Na এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 23 H এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 1 C এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 12 O এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 16
সুতরাং NaHCO3 আপেক্ষিক আণবিক ভর= (Na এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর x 1 )+(H এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর x 1 )+ (C এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর x 1 )+ ( O এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর x 3 )
বা, বেকিং সোডা বা NaHCO3 আপেক্ষিক আণবিক ভর = ( 23 x 1 ) + ( 1 x 1 ) + ( 12 x 1 ) + ( 16 x 3 )
কোনাে মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুতে যে পরমাণুগুলাে থাকে তাদের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নিজ নিজ পরমাণু সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যােগ করলে প্রাপ্ত যােগফলই হলাে ঐ অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর।
H2SO4 এর একটি অণুতে রয়েছে দুইটি H পরমাণু , একটি S পরমাণু এবং 4টি S পরমাণু। আমরা জানি,
H এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 1 S এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 32 O এর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর= 16
তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ ও তাদের ব্যবহার।তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ এর ব্যবহার।
তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ:
কিছু কিছু আইসােটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে (নিজে নিজেই) ভেঙ্গে আলফা রশ্মি (𝞪), বিটা রশ্মি,(𝜷) গামা রশ্মি (ɣ) ইত্যাদি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ বলে।
তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ-এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দিয়ে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে যেটি অন্যভাবে করা দুঃসাধ্য ছিল। বর্তমানে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ চিকিৎসাক্ষেত্রে, কৃষিক্ষেত্রে, খাদ্য ও বীজ সংরক্ষণে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কোনাে কিছুর বয়স নির্ণয়সহ আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসাক্ষেত্রে:
চিকিৎসাক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়ােজনে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন:
রােগ নির্ণয়ে:
আইসােটোপ ব্যবহার করে রােগাক্রান্ত স্থানের ছবি তােলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99TC) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানাে হয়।
এই আইসােটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তােলা সম্ভব।
এই তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ।
রােগ নিরাময়ে:
সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ ব্যবহার করা হয়। রােগীকে পরিমাণমতাে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানাে হয়। এই আইসােটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় ।এ আইসােটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে। অর্থাৎ থাইরয়েড গ্রন্থির কোষ-কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করতে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 131I ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া ইরিডিয়াম আইসােটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়। 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে। রক্তের লিউকোমিয়া রােগের চিকিৎসায় 32p এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।
কৃষিক্ষেত্রে:
ফসলের পুষ্টিতে:
ফসলের পুষ্টির জন্য জমিতে পরিমাণমতাে সার ব্যবহার করতে হয়। সার মূল্যবান বস্তু। তাই অতিরিক্ত ব্যবহার করা আর্থিক ক্ষতির কারণ। একদিকে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত সার পরিবেশের ক্ষতির কারণ, অপরদিকে প্রয়ােজনের চেয়ে কম পরিমাণ সার ব্যবহার করা হলে ফসলের উৎপাদন কম হয়।
তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ ব্যবহার করে জমিতে কী পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস আছে তা জানা যায়। আর তা জেনে জমিতে আরও কী পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস প্রয়ােজন তারও হিসাব করা যায়।
উদ্ভিদ তেজস্ক্রিয় নাইট্রোজেন ও তেজস্ক্রিয় ফসফরাস মূলের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং তা উদ্ভিদের শরীরের বিভিন্ন অংশে শােষিত হয়। এসকল তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। গাইগার মুলার কাউন্টার ব্যবহার করে এ তেজস্ক্রিয় রশ্মি শনাক্ত ও পরিমাপ করা হয়। রক্তের লিউকোমিয়া রােগের চিকিৎসায় 32p এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।(চিকিৎসাক্ষেত্রে)
ক্ষতিকারক পােকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে:
ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পােকামাকড় সব সময়ই মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এগুলাে যেমন ফসলের উৎপাদন কমায় তেমনই এদের মাধ্যমে রােগ-জীবাণুও উদ্ভিদে প্রবেশ করে। এ সকল পােকামাকড় ধ্বংস করার জন্য ফসলে এবং জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়। এ কীটনাশক পরিবেশ ও আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
শুধু তাই নয়, এ কীটনাশক ক্ষতিকারক পােকামাকড়ের সাথে সাথে অনেক উপকারী পােকামাকড়ও ধ্বংস করে। তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ সমৃদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে জানা সম্ভব হয়েছে সর্বনিম্ন কতটুকু পরিমাণ কীটনাশক একটি ফসলের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ফসলের মানােন্নয়নে:
বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রিত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে উন্নত মানের ফসলে পরিণত করা হয়।
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসােটোপের ব্যবহার:
14C তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ দ্বারা ফসিল মমিসহ পৃথিবীর যাবতীয় প্রাচীন বস্তু, এমনকি পৃথিবীর বয়স নির্ধারণ করা যায়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে:
কিছু কিছু পরমাণুকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণুতে পরিণত করলে অর্থাৎ ফিশান বিক্রিয়া ঘটালে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি বের হয়। এই তাপশক্তি ব্যবহার করে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। আমরা সেটিকে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি।
বাংলাদেশে পাবনা জেলার রূপপুরে বাংলাদেশ সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে দুই হাজার চারশত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা কর।
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ক্ষতিকর প্রভাব:
তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ আমাদের অনেক উপকারে আসে সে কথা সত্যি কিন্তু এটি আমাদের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে সে আলফা, বেটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয় তা কোষের জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে যার ফলাফল হিসেবে ক্যান্সারের মতাে রোগ হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার জন্য কয়েক লক্ষ জীবন ধ্বংস হয়েছে। 1986 সালেরাশিয়ার চোরোনােবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার ফলে অনেক প্রাণ হারিয়েছে এবং ঐ এলাকায় পরিবেশ দূষণ ঘটেছে।
১-৩০ পর্যন্ত মৌলসমূহের পারমানবিক ভর সংখ্যা মনে রাখার কৌশল
আমাদের অনেকের মৌলসমূহের পারমানবিক ভর মনে থাকে না৷ তাই, আজকে আপনাদের কাছে “১ থেকে ৩০টি মৌলের পারমানবিক ভর মনে রাখার কৌশল” নিয়ে আলোচনা করবো৷
বুদ্ধি-১ঃ ১ থেকে ১০ পর্যন্ত যেকোনো মৌলের (হাইড্রোজেন ব্যতীত) পারমানবিক সংখ্যা দ্বিগুন করলে পারমানবিক ভর পাওয়া যায়৷
উদাহরণসরূপঃ হিলিয়ামের(He) পারমানবিক সংখ্যা ২, এর দ্বিগুন হবে ২×২=৪৷ অতএব, হিলিয়ামের পারমানবিক ভর হবে ৪৷ এভাবে লিথিয়াম(Li), বেরিলিয়াম(Be), বোরন(B), কার্বন(C), নাইট্রোজেন(N), অক্সিজেন(O), ফ্লোরিন(F) এবং নিয়ন(Ne) এর পারমানবিক ভর হবে যথাক্রমে ৬, ৮, ১০, ১২, ১৪, ১৬, ১৮ এবং ২০৷ তবে, এক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের পারমানবিক ভর ১.০০৮ (ব্যতিক্রম)৷
বুদ্ধি-২ঃ ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত জোড় মৌলের পারমানবিক সংখ্যা দ্বিগুন করলে জোড় মৌলের পারমানবিক ভর পাওয়া যায়৷
উদাহরণসরূপঃ ম্যাগনেশিয়ামের(Mg) পারমানবিক সংখ্যা ১২, এর দ্বিগুন ১২×২=২৪৷ অতএব ম্যাগনেশিয়ামের(Mg) পারমানবিক ভর ২৪৷ এভাবে সিলিকন(Si), সালফার(S), আর্গন(Ar), এবং Ca(ক্যলসিয়াম) এর পারমানবিক ভর হবে যথাক্রমে ২৮, ৩২, ৩৬ এবং ৪০৷
বুদ্ধি-৩ঃ ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত বিজোড় মৌলের পারমানবিক সংখ্যা দ্বিগুনের সাথে ১ যোগ করলে বিজোড় মৌলের পারমানবিক ভর পাওয়া যায়৷
উদাহরণস্বরুপঃ সোডিয়ামের(Na) পারমানবিক সংখ্যা ১১, এর দ্বিগুনের সাথে ১ যোগ করলে হয় (১১×২)+১= ২৩৷ অতএব, সোডিয়ামের(Na) পারমানবিক ভর হবে ২৩৷ এভাবে, অ্যালুমিনিয়াম(Al), ফসফরাস(P), ক্লোরিন(Cl) এবং পটাশিয়ামের(K) পারমানবিক ভর হবে যথাক্রমে ২৭, ৩১, ৩৫.৫(ব্যতিক্রম) এবং ৩৯৷
বুদ্ধি-৪ঃ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত জোড় মৌলের পারমানবিক সংখ্যা দ্বিগুন এর সাথে ৪ যোগ করলে জোড় মৌলের পারমানবিক ভর পাওয়া যায়৷
উদাহরণস্বরুপঃ টাইটেনিয়ামের(Ti) এর পারমানবিক সংখ্যা ২২, এর দ্বিগুনের সাথে ৪ যোগ করলে হয় (২২×২)+৪=৪৮৷ অতএব, টাইটেনিয়ামের(Ti) এর পারমানবিক ভর হবে ৪৮৷ এভাবে, ক্রোমিয়াম(Cr), লোহা(Fe), নিকেল(Ni) এবং জিঙ্ক/দস্তা(Zn) এর পারমানবিক ভর হবে যথাক্রমে ৫২, ৫৬, ৬০ এবং ৬৫.৩৮(ব্যতিক্রম)৷
বুদ্ধি-৫ঃ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত বিজোড় মৌলের পারমানবিক সংখ্যা দ্বিগুন এর সাথে ৫ যোগ করলে জোড় মৌলের পারমানবিক ভর পাওয়া যায়৷
উদাহরনস্বরূপঃ স্ক্যান্ডিয়ামের(Sc) পারমানবিক সংখ্যা ২১, এর দ্বিগুনের সাথে ৫ যোগ করলে হয় (২১×২)+৫=৪৭৷ অতএব, স্ক্যান্ডিয়ামের(Sc) পারমানবিক ভর হবে ৪৭৷ এভাবে ভ্যানাডিয়াম(V), ম্যাঙ্গানিজ(Mn), কোবাল্ট(Co) এবং কপার/তামার(Cu) এর পারমানবিক ভর হবে ৫১, ৫৫, ৫৯ এবং ৬৩.৫(ব্যতিক্রম)৷