Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

এক নজরে বাংলা ব্যাকরণ পার্ট -১

 ভাষা ও বাংলা ভাষা

❐ ১. ভাষাঃ গলনালি, মুখবিবর, কন্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।

❐ ২. *** এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় ➺ শব্দ।

❐ শব্দের গুচ্ছ দিয়ে গঠিত হয় ➺ বাক্য

❐ মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে ➺ বাক্য দিয়ে

❐ মনের ভাব প্রকাশক বাক্যের সমষ্টিকে বলে ➺ ভাষা।

❐ বাংলা ভাষায় কথা বলে ➺ প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ।

❐ বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলে ➺ ষোলো কোটি

ভারতের বাংলা ভাষায় কথা বলে ➺ পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষ

❐ এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খন্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে ➺ প্রায় তিন কোটি।

❐ *** মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর ➺ ৬ষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।

❐ **ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ➺ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।

❐ ***** বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় ➺ অহমিয়া ও ওড়িয়া।

❐ *** ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

❐ ইন্দো-ইউরোপীয় > ইন্দো-ইরানীয় > ভারতীয় আর্য > প্রাকৃত > বাংলা।

❐ *** আনুমানিক এক হাজার বছর আগে কোথা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে ➺ পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা

❐ ***** বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ➺ 'চর্যাপদ'।

❐ *** বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ➺ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

❐ *** প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ➺ ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।

বাংলা ব্যাকরণ

❐ ****ব্যাকরণ' শব্দের গঠন ➺ বি+আ+√কৃ+অন।

❐ **বি'- একটি তৎসম উপসর্গ। 'বি' অর্থ- বিশেষ। 'আ' অর্থ সম্যকভাবে।

❐ **** 'ব্যাকরণ' শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ ➺ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।

❐ বি + আ = ব্যা (ব্যাকরণ শব্দের প্রথম অংশ সন্ধির নিয়মে সাধিত)।

❐ √কৃ+অন = করণ (ব্যাকরণ শব্দের পরের অংশ প্রকৃতি-প্রত্যয়ের নিয়মে সাধিত)।

❐ ***ব্যাকরণ' শব্দটি ➺ তৎসম শব্দ।

❐ **ব্যাকরণ' শব্দটি ➺ সন্ধি ও প্রকৃতি-প্রত্যয়যোগে গঠিত।

❐ প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ থাকে ➺ চারটি ১. ধ্বনি (Sound) ২. শব্দ (Word) ৩. বাক্য (Sentence) ৪. অর্থ (Meaning)

❐ সব ভাষার ব্যাকরণেই প্রধানত বিষয়ের আলোচনা করা হয়- ➺ চারটি১. ধধ্বনিতত্ত্ব (** Phonology) ২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব **Morphology) ৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (*** Syntax) ৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics) (উচ্চতর পর্যায়ে আলোচনা করা হয়।)

❐ এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

ধ্বনিতত্ত

❐ মানুষের বাকপ্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালি, মুখবিবর, জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে বলা হয় ➺ 'ধ্বনি'

❐ বাকপ্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) বলা হয় ➺ ধ্বনিমূল (Phoneme)

❐ বাকপ্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষায়ই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়। বাংলায় এ প্রতীক বা চিহ্নকে বলা হয় ➺ বর্ণ(Letter)।

❐ **ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয় ➺ ধ্বনি, বর্ণ, বর্ণমালা, বর্ণ বিন্যাস, উচ্চারণ, ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনির পরিবর্তন, ণত্ববিধান, ষত্ববিধান ও ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি ইত্যাদি।

ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয় ➺ বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

❐ মনে রাখ সহজে: ধ্বনি-বর্ণ-সন্ধি। ণত্ব-যত্ব উচ্চারণে বন্দি।

❐ রূপতত্ত্বঃ এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়। শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে বলা হয় ➺ রূপতত্ত্ব (Morphology)

❐ **শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয় ➺ শব্দ ও পদের গঠন, সংখ্যা, বচন, নির্দেশক শব্দ, অনুসর্গ, উপসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, বিভক্তি, ধাতু, লিঙ্গ, পক্ষ/পুরুষ, *** সমাস, দ্বিরুক্তি ও ক্রিয়ার কাল ইত্যাদি। রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

❐ মনে রাখ সহজে: শব্দ/সমাস-ক্রিয়া / ধাতু-প্রত্যয়-সর্গে-গিয়া/ পুরুষের বচন ও লিঙ্গ বিভক্ত করে। [সর্গ উপসর্গ, অনুসর্গ; বিভক্ত = বিভক্তি]

❐ বাক্যতত্ত্ব: বাক্যের নির্মাণ ও এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়। এছাড়া বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয় রূপান্তর, বাক্যের গঠনপ্রণালী, বাক্য ও পদক্রম, উক্তি, বাচ্য, যতি বা বিরাম চিহ্ন ইত্যাদি। বাক্যতত্ত্বকে কারক, বাক্য প্রকরণ, বাক্য বিশ্লেষণ, বাক্য পদক্রমও বলা হয়।

❐ মনে রাখ সহজে: বাক্য -বাচ্য-যতি/-কারকের-উক্তি।

❐ অর্থতত্তঃ ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয় শব্দ ও বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ, (যেমন: মুখ্যার্থ, গৌণার্থ) সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ, মোচ্চারিত শব্দ বা ভিন্নার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন, এককথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন ইত্যাদি।

❐ মনে রাখ সহজে: সমার্থক-ভিন্নার্থকে হয় বিপরীত/ বাগধারা-প্রবচনে হয় বাক্য সংকোচন।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত

❐ পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত-'VOCABULARIO EM IDIOMA BENGALLA E PORTUGUEZ (ভোকাবুলারিও এম্ ইদিওমা বেনগোল্লা ই পর্তুগিজ)' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার ➺ প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়। এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত এবং ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে ➺ পর্তুগিজ ভাষায় "রোমান অক্ষরে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

❐ বাংলাভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ ➺ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত-A grammar of The Bangal Language'।

❐ এই গ্রন্থটি **প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং **১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।

❐ ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে উইলিয়াম কেরি বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

❐ এরপর ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।

❐ এরপর তিনি ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন ➺ 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে-বিচারে এই গ্রন্থটি ➺ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

❐ বাঙালিদের মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন ➺ রাজা রামমোহন রায়।

❐ 'বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশের বিস্তৃত ইতিহাস' এবং 'ভাষা প্রকাশ ও বাঙ্গালা ব্যাকরণ' রচনা করেন ➺ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

❐ ****The Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL) এর রচয়িতা ➺ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

❐ ***বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' ও 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' রচনা করেছেন ➺ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

❐ ***ব্যাকরণ কৌমুদি' গ্রন্থটির রচয়িতা ➺ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

❐ ***পাণিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী ও ব্যাকরণবিদ। তাঁর ব্যাকরণ-গ্রন্থের নাম ➺ 'অষ্টাধ্যায়ী'।

❐ 'বাংলা ভাষার পরিচয়' ও 'বাংলা শব্দতত্ত্ব' রচনা করেছেন ➺ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

*বাংলা বর্ণমালা

❐ বাংলা বর্ণমালায় মোট ➺ ৫০টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ ➺ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ➺ ৩৯ টি।

মৌলিক ধ্বনি ➺ ৩৭টি

❐ মৌলিক স্বরধ্বনি ➺ ৭টি

❐ মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ➺ ৩০টি

Full Stack Web Developer & Content Creator

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...